
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেলেও জীবনের যে কোনও বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দৈনন্দিন জীবনযাপনের দিকে শুরু থেকেই নজর দেওয়া জরুরি। সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি দিনের শেষভাগের কিছু অভ্যাসও স্ট্রোকের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। সারাদিনের কাজের পর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, নিয়মিত বাইরের খাবার খাওয়া কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের মতো অভ্যাস সরাসরি স্ট্রোকের কারণ না হলেও দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি ও ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর এই ঝুঁকিগুলিই সময়ের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বিকেলের পর কোন কোন অভ্যাস থেকে দূরে থাকা জরুরি, জেনে নিন।
১. উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার— সোডিয়াম একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান, যা শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর কার্যকারিতা এবং পেশীর সঙ্কোচন-প্রসারণে সহায়তা করে। শরীর সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সোডিয়ামের প্রয়োজন হলেও, নিয়মিত অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা স্ট্রোকের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। রাতের খাবারের মাধ্যমেই প্রায়শই শরীরে অজান্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। রেস্তরাঁর খাবার, পিৎজ়া, স্যুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং বাইরে থেকে কেনা অনেক খাবারে মানুষ যতটা ধারণা করে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে সোডিয়াম থাকতে পারে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাবার খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই রাতে এই সব খাবার না খাওয়াই ভাল।
২. অ্যালকোহল— রাতের খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস ওয়াইন বা ককটেল পান করা হয়তো ক্লান্তি দূর করে আরাম পাওয়ার একটি চমৎকার উপায় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত রাতের রুটিনে অ্যালকোহলকে অন্তর্ভুক্ত করা মোটেও ভাল নয়। অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। পরিমিত মাত্রায় অ্যালকোহল গ্রহণও রক্তনালির স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। সন্ধ্যার পর মদ্যপান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, অথচ দীর্ঘায়ু লাভের জন্য স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের ব্যাঘাতের সঙ্গেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।
৩. অতিরিক্ত চিনি— সন্ধে নাগাদ যদি খিদে পায়, কিন্তু রাতের খাবার খেতে তখনও বেশ খানিকটা সময় বাকি থাকে, তবে মিষ্টিজাতীয় খাবার বা পানীয় খাওয়ার আগে দু’বার ভাবুন। এইগুলি খাওয়া মানেই শরীরে ঢুকছে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন এবং টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি যেমন বাড়তে পারে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ ছাড়া প্যাকেটজাত খাবার কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবারেও ভরপুর মাত্রায় চিনি থাকে। এগুলির বদলে হালকা খিদে পেলে প্রোটিন, ফাইবার বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে— এমন খাবার বেছে নিন। ফলের সঙ্গে গ্রিক ইয়োগার্ট মিশিয়ে খেতে পারেন, অথবা নুন ছাড়া বাদাম, মাখানা, ড্রাইফ্রুট্স ভাল বিকল্প হতে পারে।
৪. বসে থাকা— দিনের শেষে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বিশ্রাম নিতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁরা সারা দিন অফিসে বসে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার সময়ও একই ভাবে বসে থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভাল নয়। সন্ধ্যার দিকে শারীরচর্চার জন্য সময় বরাদ্দ রাখুন। জিমে না যেতে চাইলে আধ ঘণ্টা ব্রিস্ক ওয়াকিং করলেও উপকার পাবেন।
