
কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর : বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই আবহাওয়ার মেজাজ বদলে যাওয়ার পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর। রাজধানী কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় চরম আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে নিম্নচাপের প্রভাব কাটিয়ে শনিবার দুপুর বা বিকেলের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের সার্বিক আবহাওয়ার দৃশ্যমান উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস এবং স্থানীয় স্তরে গঠিত নিম্নচাপের ফলে রাজ্যজুড়ে মেঘের আনাগোনা বজায় থাকবে। দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বর্ধমান জেলায় সকাল থেকেই মেঘ-রোদ্দুরের খেলা চলছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বহাল থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২-৩৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। অধিকাংশ জেলায় রবিবারে মেঘলা ভাব কেটে গিয়ে ঝলমলে পরিষ্কার শরতের আকাশ দেখা যেতে পারে। যদিও উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলির কিছু অংশে অল্প সময়ের জন্য স্থানভেদে বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা পশলা বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তাহান্তের শেষভাগে মেঘ কমে রোদ ঝলমলে পরিবেশ ফিরে আসায় উৎসবের মুখে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিতে, উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সক্রিয় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে বজ্রবিদ্যুৎ সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা হ্রাস পেতে পারে এবং নিচু এলাকায় জলমগ্ন হতে পারে। মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের আশঙ্কার কারণে বৃষ্টির সময় খোলা জায়গায় আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০-৩০ কিমি থাকায় মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে।
