Entertainment

47 minutes ago

Sayak controversy: ‘গোমাতা খেয়ে জাত খোয়ানো, মেরুদণ্ড বেচা…’ ঋত্বিকের খোঁচা, বিতর্কে কী বললেন সায়ক?

Ritwick Chakraborty & Sayak Chakraborty
Ritwick Chakraborty & Sayak Chakraborty

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের বিজেপিতে যোগদান ঘিরে সরগরম নেটদুনিয়া। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বাংলার একাধিক নেটপ্রভাবীর পিছনে বিপুল অর্থ খরচ করা হয়েছিল। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিজেপির জমা দেওয়া একটি রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কোন ইনফ্লুয়েন্সারকে কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেই হিসাব নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে। এই বিতর্কের আবহেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে গত জানুয়ারি মাসের গোমাংস কাণ্ড। 

ভাইরাল হওয়া ওই খতিয়ানে জ্বলজ্বল করছে বাংলার দুই খ্যাতনামা ইনফ্লুয়েন্সর শমীক অধিকারী এবং সায়ক চক্রবর্তীর নাম। তালিকায় রয়েছে সায়ক-ঘনিষ্ঠ সুকান্ত কুণ্ডুর নামও। যিনি গোমাংস কাণ্ডের সময়ে পার্কস্ট্রিটের ওই জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় সায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। আর সেই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে উত্তরোত্তর উত্তপ্ত বাক্যবাণে বিদ্ধ হতে হচ্ছে রাজনৈতিক শিবিরের তরফে টাকা নেওয়া ইনফ্লুয়েন্সরদের। এমন আবহে গোমাংস কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তোপ দেগেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তীও। অভিনেতার খোঁচা, “নিজেই স্ক্রিপ্ট লিখে, সংলাপ বলে, ক্যামেরা করে, নির্দোষ লোককে জেল খাটিয়ে, দাঙ্গার উসকানি দিয়ে, ডায়লগ না-বলা জুনিয়র আর্টিস্টকে সাড়ে সাত লাখ টাকা পেমেন্টের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়ে নিজের জন্য মাত্র আড়াই লাখ? এ কেমন গোমতা খেয়ে জাত খোয়ানো মেরুদণ্ড বেচা টুনটুনি রে!” আর ঋত্বিকের এহেন সোশাল টিপ্পনিই আপাতত নেটভুবনে ঝড় তুলে দিয়েছে। এককথায়, ‘বিগ বস’-এর ঘর থেকে বেরিয়েই ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন সায়ক। বিজেপির জমা দেওয়া খতিয়ানের ছবি ভাইরাল হতেই লাগাতার সমালোচনা, কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিনেতাকে। 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে বিতর্কের ঝড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নেমেছেন অভিনেতা-ইনফ্লুয়েন্সর। সায়ক জানান, “অলি পাবে রিঅ্যাকশন আমার ইনস্ট্যান্ট, সেটা অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে আমি নিজে সব ডিলিট করেছিলাম। আমি সেটা নিয়ে আর কথাও বলিনি, অলি পাব ভুল স্বীকার করে স্টেটমেন্টও দিয়েছিল। এটার সাথে অন্য কিছুর কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা ঘটনা, রাজনীতি না। আমার মতে সেটা নিয়ে এখনও যারা উসকাচ্ছে, তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে, সেটা সরকার দেখবে। আমি যা রোজগার করি সৎপথে।” তাঁর সংযোজন, গোমাংস কাণ্ডের পর কয়েকটা দল কন্টেন্ট বানানোর জন্য তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলছেন, “তার আগেও প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় বিজেপি এবং সম-মনোভাবাপন্নরা আমাকে সমর্থন করেছিলেন। তাই হ্যাঁ, আমি তাদের হয়ে কিছু কনটেন্ট বানিয়েছি।… নিন্দুকদের এসব বাজে কথায় আমার তাই আর কিছু যায় আসে না, আসবেও না। দিনের শেষে ভালোবাসার জয় হয়, ঘেন্নার নয়।” 

প্রত্যেকের রাজনৈতিক মতামত থাকাই স্বাভাবিক। কেউ তা প্রকাশ্যে বলেন, কেউ গোপনই রাখেন। তবে যাঁরা ইনফ্লুয়েন্সর তাঁদের দায়িত্ব আর পাঁচজনের থেকে অনেকটা বেশি। কারণ, তাঁদের মতামতের একটা গুরুত্ব রয়েছে সমাজে। চলতি বছরে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিল ‘বাটন’ নামের একটি ভিডিও। যেখানে তৃণমূল জমানার দুর্নীতি, অত্যাচারের ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ‘বাটন’ তৈরির সাহস দেখানোর জন্য ক্রিয়েটর শমীক অধিকারীকে কুর্নিশ জানিয়েছিল সকলে। পরবর্তীকালে সেই ক্রিয়েটর গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বান্ধবীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে। ১ মাসের বেশি সময় জেল খেটেছেন। তার প্রাক্কালেই ঘটে সায়কের গোমাংস কাণ্ড। এবার ভাইরাল হওয়া ওই খতিয়ানে দুই নেটপ্রভাবীদের নাম দেখে ফের বিতর্কের ঝড়। 

You might also like!