
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শনিবারই এ বিষয়ে ঘোষণা করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার ইসিআইনেটে ফের চালু হল ‘পুরনো’ ফর্ম ৬। পশ্চিমবঙ্গ-সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মোট ১৩টি রাজ্যে এই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আবেদনকারীদের আর আলাদা করে এসআইআর সংক্রান্ত ‘স্বঘোষণা’ জমা দিতে হবে না। ফর্ম ৬-এর মাধ্যমেই নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির আবেদন করা যাবে।
বলে রাখা ভালো, ফর্ম ৬ পূরণ করেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে হয় নতুন ভোটারদের। এনিয়েই রয়েছে বিতর্ক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দুই সহকর্মীর ‘ডিসেন্ট নোট’কে কেন্দ্র করে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। বিরোধীদের অভিযোগ, ফর্ম ৬ হাতিয়ার করেই ভোটার বাদ দিয়েছেন জ্ঞানেশ। এসআইআর শুরু হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নতুন ভোটারদের সংযুক্তকরণে (ফর্ম ৬) আবেদনকারীর পরিবারের এসআইআরের তথ্য নিতে শুরু করে। শেষ এসআইআরে আবেদনকারীর বাবা-মা, দাদু-দিদার নাম আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অনলাইন ৬ ফর্মের জে ও কে সেকশনে এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। দিতে হচ্ছিল স্বঘোষণা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফর্মে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। জানা গিয়েছে, কমিশনার সান্ধু আপত্তি তুলে জানিয়েছিলেন, আইন সংশোধনের পরই ফর্মে সংশোধন করা যাবে। তার আগে নয়। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সেই আপত্তি কানে তোলেননি বলেই দাবি। এ ছাড়াও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মাসে ১৪ বার তাঁরা চিঠি দিয়েছিল। ক্যাবিনেট সচিবের কাছেও চিঠি পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বির্তকের মাঝে গত শনিবার কমিশন তিন নির্বাচন কমিশনারের ছবি প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় কমিশন। সেখানে একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানানো হয়, যে সমস্ত রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে না বা হয়ে গিয়েছে, সেগুলিতে ১৯৬০ সালের ভোটার আইন অনুযায়ী ফর্ম ৬ পাওয়া যাবে। সেই ঘোষণার তিন দিন পর কমিশনের পোর্টালে ফের পুরনো চেহারার ফর্ম ৬ পাওয়া যাচ্ছে। এসআইআর সংক্রান্ত কোনও তথ্য দিতে হচ্ছে না বলেই জানা গিয়েছে।
