kolkata

1 hour ago

Mamata Banerjee: নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন! ‘সিস্টার পার্টি’ বলতেই নতুন জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

Mamata Banerjee
Mamata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে নাটকীয় মোড়। শুক্রবার আদি দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেবে না তাঁর শিবির। বরং সেখানে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।” অর্থাৎ আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের প্রতি সমর্থন জানাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে সরাসরি নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে গিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থনের এই সিদ্ধান্তে উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন মমতাকে নাম না করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সবপক্ষের কথা শুনে উনি নিজের দলকে একজোট রাখতে পারেননি। দুই-তিন-চার ভাগ হয়েছে। এর দায়িত্ব ওনার। এটার সঙ্গে আমাদের বিজেপির রোল নেই।” তিনি মনে করিয়ে দেন, “তবে আমি একটা কথা বলি, নির্বাচনের গনণার দিন হলদিয়ায় বলছিলাম আর যেই থাকুক ওনারা থাকবেন না।” ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন হয়েছিল। রাম মন্দির তৈরির বিরোধিতা করেছিলেন সেসময়ের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার রাজপথে সেদিন মিছিলেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মমতা। সেই বিরোধিতায় রামচন্দ্রের অভিশাপেই তৃণমূল ধ্বংস হল! কুম্ভমেলা নিয়েও অতীতে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “অতি দর্পে হত লঙ্কা। দম্ভ যার হবে সেই দম্ভে সে চূর্ণ হবে। হিন্দু ধর্মকে গন্ধ্যা ধর্ম বলা, কুম্ভ মৃত্যু কুম্ভ বলা, রাম মন্দির উদ্ধোধনের দিন মানি না বলে মিছিল করা। ভগবান পুরুত্তোম রামচন্দ্রের মহারাজে অভিশাপে সব ধ্বংস হয়েছে।”

অন্যদিকে দলের পরিচিত প্রতীক নেই, এমনকি দলের নাম ব্যবহারের অনুমতিও নেই। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ভাবে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন যে রাজনৈতিক পরিসরকে ঘিরে তাঁর পথচলা, সেই পরিচিত কাঠামোই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। এরই মধ্যে নিজের পুরনো একটি অবস্থান থেকেও সরে এলেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তথাকথিত ‘গোদি মিডিয়া’র সঙ্গে তিনি কোনও সম্পর্ক রাখবেন না। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানেও বদল এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই মমতার এই অবস্থান পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর একবার মাত্র সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মমতা। সেদিনই জানিয়ে দেন, গদি মিডিয়ার সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক রাখবেন না। তাঁর অভিযোগ ছিল, সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি। তারপর গত পাঁচ মাস কোনও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, কোনও সাক্ষাৎকার দেননি কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো। নিজের যাবতীয় বক্তব্য তিনি তুলে ধরেন ফেসবুক লাইভে, যেখানে পালটা প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে না। এর মধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে বহু বদল এসেছে, তাঁর দল ভেঙেছে। কিন্তু মমতার প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এবার সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলেন করলেন কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের প্রতীক হারানোর পর েদিন বিকাল চারটেয় সাংবাদিক সম্মেলন করবে কালীঘাট তৃণমূল। সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার কমিশনের সিদ্ধান্ত জানার পর রাতেই ঠিক হয় এ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। তাতে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা নিজেও বক্তব্য রাখবেন। যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বলা ভালো, পাঁচ মাস পর ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগল। 

এদিন কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি  জানালেন, ‘‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।” অর্থাৎ আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান সমর্থন করছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কি লড়বেন মমতা? নাকি সেখানেও অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন? তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন নেত্রী। ২০১১ সালে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পর আজ, ২০২৬ সাল অর্থাৎ ১৫ বছর পর নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের কটাক্ষ, নিজের সব হারিয়ে এখন কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই। রাতেই আচমকা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ঘাসফুল প্রতীকটি ফ্রিজ করা হচ্ছে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূল বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, কেউই এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। বিকল্প প্রতীক বেছে নিতে হবে দুই শিবিরকে। শুক্রবার সেইমতো মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক ও ঋতব্রতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ‘খাম’ প্রতীক। 

এরপরই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড়! নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। আর তারপর তিনি হলদিয়া ফিরে মহকুমাশাসকের দপ্তরে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। আর তারপর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘‘নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করব বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম। বৃহত্তর স্বার্থে দেশের জন্য সমর্থন। ওরা সিস্টার পার্টি।” জোট প্রসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘রাহুলজি গতকাল (শুক্রবার) কল করেছিলেন। আমরা সকলে একসঙ্গে আছি, আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমরা সমস্ত স্বাভাবিক জোটকে সমর্থন করব। আমাদের সিস্টার দলকে সমর্থন করব।”  

আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক তো দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে মতানৈক্যের জেরে ‘হাত’ শিবির ছেড়ে ঘাসফুল প্রতীকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। বছরের পর বছর লোকসভা, বিধানসভা ভোটে নিজের শক্তিতে লড়াইয়ের পর ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বাম সরকারের অবসান ঘটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শেষ। তারপর কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ততা ছাড়া কিছুই হয়নি সদ্যপ্রাক্তন দল তৃণমূল কংগ্রেসের। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ২৮ বছর পর নিজের হাতে গড়া দল, প্রতীক সব হারিয়ে এখন ‘সিস্টার পার্টি’  বলে ফের কংগ্রেসেরই ‘হাত’ ধরলেন মমতা। 

You might also like!