
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর গত বছরের শেষ দিকে জামিন পেয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনের অন্যতম শর্ত ছিল, প্রতি সপ্তাহে এক দিন আদালতে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। কিন্তু সেই শর্ত তিনি নিয়মিত পালন করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারও আদালতে হাজিরা দেননি পার্থ। এভাবে বারবার জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁর জামিন খারিজের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে অসুস্থ থাকার কারণেই প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই আবেদনের শুনানি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা। ফলে সেদিন আদালতের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই এখন নজর। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন বহাল থাকবে, নাকি তাঁকে ফের জেলে যেতে হবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রথমে ইডি, পরে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তার আগেই পার্থ নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক মামলায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে ছিল, তার একাধিক প্রমাণ মেলে পার্থ ঘনিষ্ঠ নানা ব্যক্তির বয়ানে। সেই মামলায় দীর্ঘ তিনবছর জেলবন্দি ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। শর্ত ছিল, প্রতি সপ্তাহে একদিন তাঁকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে।
কিন্তু পার্থ এই শর্ত মানেননি বলে অভিযোগ। তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। তাই সিবিআই তাঁর জামিন খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা করে। দাবি একটাই, এই পরিস্থিতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন খারিজ করে ফের জেলবন্দি করা হোক তাঁকে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি। তবে কি আবারও গারদের পিছনেই ঠাঁই হবে প্রাক্তন মন্ত্রীর? এই আশঙ্কা বাড়ছে। যদিও পার্থর আইনজীবীর দাবি, তিনি অসুস্থ। তাই নিয়মিত হাজিরা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া জামিনের কোনও শর্ত লঙ্ঘন করেননি তাঁর মক্কেল।
