
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২৮ বছর ধরে তিলেতিলে গড়ে ওঠা দল ও সংগঠনকে ঘিরে এবার বড়সড় রাজনৈতিক টানাপোড়েন। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত প্রতীক জোড়াফুল আর কোনও পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিবর্তে বিবদমান দুই পক্ষের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, দলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার থেকে তিনি সরে দাঁড়াবেন না। সেই অবস্থান থেকেই শুক্রবার রাতেই আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কেড়ে নেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মমতা। ওই মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ছাব্বিশের ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই সদ্যপ্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয় মুষলপর্ব। জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে যান। দ্বিধাবিভক্ত দলে নাম, প্রতীক ও তহবিল নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। দুই শিবিরই দলের নাম, প্রতীক, তহবিল হাতে রাখতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বরাস্থ হয়ে নিজেদের প্রমাণ পেশ করে। কিন্তু কমিশন দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। শেষমেশ ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ইতি পড়ে এই প্রতীক যুদ্ধে। এদিন দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানায়, জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস – কোনওটিরই অস্তিত্ব নেই। মমতার শিবিরের নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘ফুটবলার’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘খাম’। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আবহে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর বিকেলে মমতা সাংবাদিক বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। সেইসঙ্গে জানান, নিজের হাতে গড়া দল ও প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না, শেষপর্যন্ত লড়ে যাবেন। কথামতোই কাজ। শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় শীর্ষ আদালতের মামলা দায়ের করে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যুক্ত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে পারে।
