
ভোপাল, ৮ আগস্ট : মধ্যপ্রদেশে বর্ষার খামখেয়ালীপনার মধ্যেই শনিবার পান্না, সাতনা এবং রেওয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর এই তিন জেলায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ভোপাল, ইন্দোর, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র এবং জবলপুর সহ রাজ্যের ৫২টি জেলায় হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে এ পর্যন্ত গড়ে ১৬.৮ ইঞ্চি (৪২৬.৬ মিমি) বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে এই সময়ে ২১ ইঞ্চি (৫৩৩.৬ মিমি) বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। ফলে রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.২ ইঞ্চি অর্থাৎ ২০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের স্বাভাবিক বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩৭.৩ ইঞ্চি, আর চলতি মরসুমে এখন পর্যন্ত ধার্য কোটার অর্ধেক বৃষ্টিও হয়নি।
শুক্রবার দতিয়ায় বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। সেখানে সকালে মাত্র ৪ ঘণ্টায় প্রায় ১.৫৭ ইঞ্চি (৪০ মিমি) এবং ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩.৫ ইঞ্চি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় জল জমে যাওয়ায় স্কুলে ছুটি ঘোষণা করতে হয়। ভাঁডের এবং সেওড়া ব্লকে অষ্টম শ্রেণীর ওপরের স্কুলগুলি খোলার সিদ্ধান্ত স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রায়সেনেও শুক্রবার সকালে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, যার পর দফায় দফায় জল পড়তে থাকে। এতে একাধিক রাস্তায় জলজটের সৃষ্টি হয়।
শোণ নদীর ব্রিজে জল, ৪০টি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
সিধি জেলার ভঁওরসেন ঘাটে শুক্রবার সকালে হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির পর শোণ নদীর ব্রিজের ওপর জল উঠে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রিজটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০টি গ্রামের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া ভঁওরসেন পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর ধসে রাস্তায় চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি খরগোন, সাতনা, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, রেওয়া, সিধি এবং রায়সেন সহ একাধিক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পূর্ব মধ্যপ্রদেশে ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি
রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় জবলপুর, শাহডোল, রেওয়া এবং সাগর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অনুপপুর, বালাঘাট, ছতারপুর, ছিন্দওয়াড়া, দামোহ, দিন্ডোরি, জবলপুর, কাটনি, মাইহার, মান্ডলা, মউগঞ্জ, নরসিংপুর, নিওয়ারি, পান্ধুরনা, পান্না, রেওয়া, সাগর, সাতনা, সিওনি, শাহডোল, সিধি, সিঙ্গারাউলি, টিকমগড় এবং উমারিয়া জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ৫ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত।
পশ্চিম মধ্যপ্রদেশেও বৃষ্টির ঘাটতি
ভোপাল, ইন্দোর, উজ্জয়িনী, নর্মদাপুরম এবং গোয়ালিয়র-চম্বল বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে। আগর-মালবা, আলিরাজপুর, অশোকনগর, বেতুল, ভোপাল, দতিয়া, ধার, গুনা, হরদা, ইন্দোর, ঝাবুয়া, মোরেনা, মন্দসৌর, নর্মদাপুরম, নিমচ, রায়সেন, রাজগড়, রতলম, সেহোর, সাজাপুর, শিওপুর, শিবপুরী, উজ্জয়িনী, বারওয়ানি এবং বিদিশায় বৃষ্টি গড় হারের চেয়ে কম।
এই ৬ জেলায় গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টি
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের গোয়ালিয়র, ভিন্দ, বুরহানপুর, দেওয়াস, খণ্ডবা এবং খরগোন—শুধুমাত্র এই ছয়টি জেলাতেই এ পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গিয়েছে।
