
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনায় সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মমতার কনভয়ে হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ‘রাজ্য-পরিকল্পিত’ হামলা। এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির মদত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। অভিষেকের আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘পূর্ণ সমর্থন’ ছিল এই ঘটনার পিছনে এবং শুভেন্দু অধিকারী সেই পরিকল্পনা ‘কার্যকর’ করেছেন।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন নন। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রীর কনভয়ে এ ধরনের হামলা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অভিষেকের দাবি, মমতার কনভয়ে হামলায় যারা জড়িত ছিল, তাদের অনেককেই বিভিন্ন সময়ে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভয় দেখানো এবং তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলের এই সাংসদ। অভিষেক বলেন, ‘‘ওঁরা কোনও বিরোধী শক্তিকে অস্তিত্বশীল রাখতে চান না। বিরোধী নেতাদের শেষ করে দিতে চান।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যে যে দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করছে, তারা আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলির কোনওটিই পূরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার কনভয়ে হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এই ঘটনার পিছনে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুধু সেই পরিকল্পনা কার্যকর করেছেন।’’ যদিও অভিষেকের এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নতুন প্রমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি। তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে। সেখানে এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর, কাদা, জুতো-সহ বিভিন্ন জিনিস ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। মমতা নিজেও দাবি করেন, এই হামলা আরও ভয়াবহ হতে পারত এবং তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একাধিক নেতা এই ঘটনাকে মমতার উপর হামলা এবং রাজনৈতিক হিংসার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরনের হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, মমতার উপর হামলা কোনওভাবেই দলের সংস্কৃতি নয় এবং ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও হামলার সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা দলীয় কর্মী ছিল না। হামলার পর আইনশৃঙ্খলা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার হালিশহরের পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। স্থানীয় থানার ইনচার্জকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। মমতার কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে নতুন করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপি তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করছে। ফলে হালিশহরের ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
