
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রামমন্দির ট্রাস্টের প্রথম সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রথম প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক কে হবেন, তা চূড়ান্ত করতে বুধবার দুপুরে অযোধ্যায় বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাস্টের সদস্যরা। সেই বৈঠকেই অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্তা জিতেন্দ্র মিশ্রের নাম সিইও পদে চূড়ান্ত করা হয়।
রামমন্দিরের প্রণামী চুরির বিতর্কের পর থেকে সিইও নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়। এই পদের জন্য একটি বাছাই কমিটিও তৈরি করা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলির নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই বাছাই কমিটি পাঁচ হাজারেরও আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক বাছাই পর্বের পরে ১৬ জনকে ‘শর্টলিস্ট’ করে ওই কমিটি। তাঁদের মধ্যে থেকে এ বার ট্রাস্টের প্রথম সিইও হিসেবে বেছে নেওয়া হল বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফিল্ড মার্শালকে। ভারতীয় বায়ুসেনার এই অবসরপ্রাপ্ত কর্তা বাহিনীতে বেশ কিছু কমান্ডিং পদে দায়িত্ব সামলেছেন। যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে ১৯৮৬ সালে বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। গত বছর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সামলেছেন বায়ুসেনার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব। ৩৮ বছরেরও বেশি সময় বাহিনীতে থাকার পরে গত মে মাসে অবসর নেন জিতেন্দ্র। এ বার রামমন্দিরের ট্রাস্টের কাজকর্ম পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাবেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফিল্ড মার্শাল।
গত জুন মাসে মন্দিরের দানবাক্স ও অনুদানের টাকা, সোনা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গরমিলের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তার পরেই প্রথম বার পূর্ণ সময়ের সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাস্ট। নতুন সিইও-র হাতে মন্দিরের প্রশাসন, পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্ব থাকবে। সিইও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ৬ জুলাই। ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র দফায় দফায় যাচাই-বাছাই করা হয়। তার পরে প্রথমে ১১১ জন প্রার্থীকে শর্টলিস্ট করে। তার পরে সেখান থেকে আরও যাচাই-বাছাই করে ১৬ জনকে মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছিল অযোধ্যায়।
বাছাই কমিটির তিন সদস্য— অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং শিল্পপতি সুরেশ হাওয়ারে গত সোমবার গভীর রাতে অযোধ্যায় পৌঁছোন। সূত্রের খবর, তাঁরা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মহন্ত নৃত্যগোপাল দাসের কাছে তাঁরা শর্টলিস্ট করা তিন জনের নাম-সহ একটি মুখবন্ধ খাম তুলে দেন। তার পরে বুধবার দুপুরে একটি বৈঠক হয় অযোধ্যায়। ওই বৈঠকেই অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
