
কলকাতা, ২৯ আগস্ট : কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আহমেদ আনসারীর সেল থেকে আইফোনসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তল্লাশি চালানোর সময় জেল আধিকারিকেরা ৩১ হাজার টাকা নগদসহ একাধিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও উদ্ধার করেছেন। এই ঘটনায় জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেস্টিংস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোয়েন্দা বিভাগের কাছে তথ্য ছিল যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আফতাব জেলের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। সে ইন্টারনেটও ব্যবহার করছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি জেল আধিকারিকেরা ১৪ নম্বর সেলে এক বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালান।
তল্লাশি চলাকালীন আফতাবের পোশাক ও বিছানা পরীক্ষা করতেই সেখান থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়, যার মধ্যে একটি আইফোন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দুটি রাউটার, ওয়াই-ফাই সরঞ্জাম, দুটি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ এবং এয়ারফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেল থেকে ৫০০ টাকার নোটে রাখা মোট ৩১ হাজার টাকা নগদ পাওয়া গেছে।
জেলের অভ্যন্তরে আফতাবের কাছে কীভাবে এতগুলি মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছাল, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জেলের ভেতরে থেকে সে বাইরে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পুলিশের সন্দেহ, সে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করত। পাকিস্তান বা অন্য কোথাও কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সরঞ্জাম এবং নগদ টাকা জেলের ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে কোনো জেলকর্মীর ভূমিকা ছিল কি না, পুলিশ তাও জানার চেষ্টা করছে। এই দিকে লক্ষ্য রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৫ মে শুভেন্দু অধিকারী প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছিলেন। জেলের ভেতরে বন্দিদের কাছে কীভাবে মোবাইল পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে বিগত সরকারের আমলের মদত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার পর বেশ কিছু মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার ও মুখ্য নিয়ন্ত্রককে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ঘটনার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরও একাধিকবার জেলে বন্দিদের কাছ থেকে স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা ঘটে চলেছে।
