kolkata

1 hour ago

Bengal Territorial Army Song: প্রাদেশিক সেনা ৭৭ বছর পর পেল নিজস্ব সরকারি সঙ্গীত, কলকাতায় প্রকাশ

Territorial Army Official Song
Territorial Army Official Song

 

কলকাতা, ২৯ আগস্ট  : দেশের সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখা প্রাদেশিক সেনা (টেরিটোরিয়াল আর্মি) অবশেষে তাদের নিজস্ব সরকারি সঙ্গীত (অফিসিয়াল সং) পেল। ১৯৪৯ সালে গঠনের পর প্রায় ৭৭ বছর ধরে এই বাহিনীর কোনো নির্দিষ্ট সরকারি সঙ্গীত ছিল না। অবশেষে কলকাতায় আয়োজিত দু'দিনব্যাপী ‘নো ইয়োর টেরিটোরিয়াল আর্মি’ সেমিনার এবং ‘টিএ ২.০’ সংক্রান্ত আলোচনার শেষ দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সঙ্গীতটির উন্মোচন করা হয়।

প্রাদেশিক সেনার পক্ষ থেকে শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে সঙ্গীতটির উন্মোচন হয়। এই পদক্ষেপ বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচয়, ঐতিহ্য এবং সেবার মনোভাবকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাদেশিক সেনায় এমন সাধারণ নারী-পুরুষেরা থাকেন, যাঁরা নিজেদের মূল পেশার পাশাপাশি বছরের নির্দিষ্ট সময় সৈনিক হিসেবে দেশের সেবা করেন। এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য জাতীয় দায়িত্ব পালন করে থাকে। দীর্ঘ দিন দেশসেবায় নিয়োজিত থাকলেও এতদিন পর্যন্ত এই বাহিনীর নিজস্ব কোনো সরকারি সঙ্গীত ছিল না। এই নতুন সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বাহিনী তার সামরিক পরিচয়ের এক নতুন প্রতীক পেল।

কলকাতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রাদেশিক সেনার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গম্ভীর সিং, প্রাদেশিক সেনার অতিরিক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সুজিত শিবাজী পাতিলসহ বহু প্রবীণ ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাক্তন সেনাপ্রধানের সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাকেশ কাপুর (অবসরপ্রাপ্ত) ‘টিএ-র ভবিষ্যতের লক্ষ্য’ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে প্রাদেশিক সেনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রথম আলোচনা সভার মূল বিষয় ছিল ‘ভারতের জাতীয় প্রতিভাকে সুযোগ প্রদান’। এতে আইআইটি খড়গপুরের অধ্যাপক বাসদেব চক্রবর্তী, ভারতের প্রাণীবিদ্যা জরিপ (জেডএসআই)-এর অধিকর্তা ধৃতি ব্যানার্জী, ভুবনেশ্বরের এক্সআইএম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাদার কেএস কাইসামির এবং জেনরোবোটিক্স ইনোভেশনের সিইও বিমল গোবিন্দ এমকে অংশ নেন।  এরপর প্রাদেশিক সেনায় নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয় এবং ‘নো ইয়োর টিএ’ শীর্ষক একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশ, শাসনব্যবস্থা এবং সামাজিক বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা হয়। এতে মেঘালয় লোকায়ুক্তের চেয়ারম্যান সি. পি. মারাক, ধৃতি ব্যানার্জী এবং পরিবেশ ও প্রশাসনিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শ্রুতি শর্মা রানা অংশ নেন। কর্মসূচিতে প্রাদেশিক সেনা এবং সাতটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক ( মউ) আনুষ্ঠানিকভাবে আদান-প্রদান করা হয়। এর পরই সরকারি সঙ্গীতটির উন্মোচন করা হয়। কৌশলগত বিশ্লেষক এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক ধারাভাষ্যকার নিতিন এ. গোখলেও প্রাদেশিক সেনার ভবিষ্যৎ বিকাশ ও পরিবর্তনশীল রূপ নিয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেন।

KYTA-র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। প্রচুর সংখ্যক নাগরিক, স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং এনসিসি ক্যাডেটরা এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং প্রাদেশিক সেনার ভূমিকা ও অবদান সম্পর্কে বিশদে জানতে পারেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রাদেশিক সেনার নিজস্ব সাংস্কৃতিক দলগুলি বিভিন্ন পরিবেশনা তুলে ধরে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ প্রজন্ম এবং সাধারণ মানুষকে প্রাদেশিক সেনার ভূমিকা, তাদের কাজের ধারা এবং দেশসেবায় অবদানের বিষয়ে অবহিত করা।

You might also like!