
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার আকাশপথে বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুপুরে সবংয়ে পৌঁছে হেলিকপ্টারে করে সবং, ভগবানপুর ও পটাশপুরের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, সবংয়ে বন্যার জেরে প্রায় ৩২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি বন্যা মোকাবিলা ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশও দেন শুভেন্দু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আকাশপথে সবং ভগবানপুর, পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেলেঘাই নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। তা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিন সবং-সহ বন্যা কবলিত এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। এলাকায় ১০ জনকে সাপে কামড়েছে। সকলকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জলবন্দি এলাকার মানুষদের রেশন ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গোটা জেলার সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, পিএইচই দপ্তরের আধিকারিক ও জেলার সব বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেশ মাহাতোকে পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, “এলাকার মানুষজন বলছিলেন, ১৯৮৬ সালে জ্যোতি বসু এখানে এসেছিলেন। তারপরে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এখানে এল। কী করা যাবে, আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে মানুষ বলে মনে করতেন না। আর আমার সঙ্গে গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। গ্রামেই আমার শুরু, গ্রামেই শেষ।”
