
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকার পাশাপাশি পরিচয়পত্র না পাওয়ার অভিযোগে গত তিন দিন ধরে কর্মবিরতিতে রয়েছেন শান্তিপুর পুরসভার সাফাই কর্মীদের একাংশ। বকেয়া বেতন ও পরিচয়পত্রের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন বুধবার আরও তীব্র আকার নেয়। এদিন পুরসভায় আবর্জনা এনে ছড়িয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীদের একাংশ। এমনকী পুরসভার চেয়ারম্যানের ঘরের বাইরেও ফেলে দেওয়া হয় পচা আবর্জনা। দুর্গন্ধ ও নোংরা-আবর্জনায় পুরসভা চত্বরে তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
সাফাই কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া রয়েছে। পরিচয়পত্র-সহ একাধিক দাবিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানানো হচ্ছিল। অভিযোগ, আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না। বেতন পাওয়াও দুরস্থ। গত তিনদিন ধরে সাফাই কর্মীরা কর্মবিরতিতেও রয়েছেন। কিন্তু তারপরেও পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও হেলদোল দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার পচা, আবর্জনা নিয়ে পুরসভায় হাজির হলেন বিক্ষোভকারীরা।
কর্মব্যস্ত সময়ে সাফাই কর্মীরা আবর্জনা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পুরসভার ভিতরে ঢুকে আবর্জনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মৃত কুকুর থেকে পচনশীল আবর্জনা ছড়ানো হয়। বাদ যায়নি পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের ঘরও। সেই ঘরের দরজার বাইরে একইভাবে আবর্জনা ছড়িয়ে রাখা হয়। বকেয়া বেতন-সহ অন্যান্য দাবিতে তার মধ্যেই চলতে থাকে বিক্ষোভ। সাফাই কর্মীদের বক্তব্য, বকেয়া বেতন না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিয়মিত কাজ করার পরও বেতন না পেলে কীভাবে তাঁরা সংসার চালাবেন? তিনদিন ধরে কর্মবিরতি চললেও চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি বলেও অভিযোগ।
আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, এর আগেও একই সমস্যা নিয়ে শান্তিপুরের বিধায়কের কাছে তাঁরা গিয়েছিলেন। সেসময় সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হলেও ফের মাস ঘুরতেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেকারণে এই আন্দোলন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরসভার আবর্জনাও পরিষ্কার করা হয়। চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ চলে। এদিকে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে শান্তিপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমতে শুরু করেছে জঞ্জাল। সাধারণ মানুষজনও দুর্ভোগে পড়ছেন।
