
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ফের আপত্তি উঠল। এর আগে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (নালসার) এবং বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল’ স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতেও একই ধরনের বিরোধিতা দেখা গিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মহারাষ্ট্রের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সেস (টিস)। সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেন একাংশ পড়ুয়া। শেষ পর্যন্ত পড়ুয়াদের আপত্তির জেরে অতিথি তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে প্রধান বিচারপতিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে টিসের সমাবর্তন অনুষ্ঠান।
প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়েছে তাঁর নাম, এমনটাই খবর। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সূচিও পিছিয়েছে। আগে ছিল ২ আগস্ট। তা পিছিয়ে হয়েছে ২২ আগস্ট, শনিবার। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে আর প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত থাকছেন না। নতুন নাম রয়েছে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডিরেক্টর সি এস প্রমেশের।
কিন্তু কী কারণে এই সমাবর্তনের দিন এবং প্রধান অতিথির তালিকা বদল, টিস-এর তরফে কিছু সরকারিভাবে জানানো হয়নি। কিন্তু সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে থাকলে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ করতে পারে, এবং তা হলে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তায় প্রভাব পড়তে পারে- সে কথা মাথায় রেখেই এই বদল। এর আগে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন হায়দরাবাদ নালসার-পড়ুয়াদের একাংশ। ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি’ (এনএলএসআইইউ)-র বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও একই পথে হাঁটেন।
প্রসঙ্গত, হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে। এর বিরোধিতা করেন পড়ুয়াদের একাংশ। ই ঘটনার জেরে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই)। এক নির্দেশিকায় বিসিআই জানিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হায়দরাবাদের আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককে কোনও রাজ্যের বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে না। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
