
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার হতেই খড়দহে দেখা গেল কার্যত উৎসবের আবহ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভয়া কাণ্ডে এতদিন পর প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খড়দহ থানার সামনে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অনেককে ডিজে বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে, তা আগেই আঁচ করেছিলেন পুলিশকর্মীরা। তাই নির্মলকে থানা থেকে বের করার সময় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি তাঁর মাথায় হেলমেটও পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত সতর্কতার পরেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়নি। থানার বাইরে জনতার একাংশের হামলার মুখে পড়েন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি চড় ও লাথি মারার অভিযোগও ওঠে। এর আগে অবশ্য থানার লকআপে থাকাকালীন খাবার নিয়েও একাধিক আবদার করতে দেখা যায় নির্মল ঘোষকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, থানার লকআপে বসে ক্যান্টিনের এক কর্মীকে দেখতে পান নির্মল ঘোষ। তাঁর থেকে আদা দেওয়া দুধ চা চান প্রাক্তন বিধায়ক। সেই মতো নাকি চা দেওয়া হয়। সকালে তাঁকে দেখতে লকআপে যান পুত্রবধূ দীপান্বিতা ঘোষ। শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার সময় খাবার চান নির্মল। তাঁকে সেই সময় ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট আর ঘুগনি দেওয়া হয়। তারপরই আদালতে তোলা হয় তাঁকে।
বলে রাখা অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই রাতে শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, বারাকপুরের সিপিকে সে তদন্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেন। সেই মতো এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তার অভিযোগের দু’দিন পরই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াকে পুরনো মোবাইল নম্বর সুইচড অফ করে দেন। রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে যান। সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওড়িশার আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। নির্মল ঘোষের গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
