
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহ থানায় আনা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। এদিকে, পানিহাটি শ্মশানঘাটে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে গোপন জবানবন্দি দিতে থানায় পৌঁছেছেন অভয়ার বাবা। নির্মলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই খড়দহ থানার বাইরে ভিড় জমে যায় উচ্ছ্বসিত জনতার। অনেককে ডিজে বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়। অন্যদিকে, বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে, তা আঁচ করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানার বাইরে আনা হয়। তবে নিরাপত্তার এই ব্যবস্থা সত্ত্বেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়নি। থানার সামনে জড়ো হওয়া জনতার একাংশ নির্মল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি তাঁকে চড় ও লাথি মারার ঘটনাও ঘটে।
গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই রাতে শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, বারাকপুরের সিপিকে সে তদন্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেন। সেই মতো এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তার অভিযোগের দু’দিন পরই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াকে পুরনো মোবাইল নম্বর সুইচড অফ করে দেন। রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে যান। সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওড়িশার আদালতে তোলা হয় তাঁকে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে খড়দহে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার নির্মল ও সঞ্জয়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারিতে খুশি অভয়ার মা। সোশাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। এদিকে, নির্মলের গ্রেপ্তারির পরই অভয়ার বাবা এবং মায়ের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে বলেই খবর।
