
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুরে নাবালকদের রক্তদানকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বয়স গোপন করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এমনকি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের রক্ত দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্কুলের এক প্রাক্তন পড়ুয়া এই প্রলোভনের নেপথ্যে থাকতে পারে। ঘটনার কথা সামনে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আইন ভেঙে নাবালকদের রক্ত সংগ্রহের ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ৩ নাবালকের থেকে রক্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। ওই বেসরকারি স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমানে দুর্গাপুর ভিড়িঙ্গি টিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার বিরুদ্ধে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, রক্ত দিলে ৩০০ টাকা দেওয়া হবে, এই লোভ দেখিয়ে নাবালকদের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাদের রক্তদান করানো হয় বলে অভিযোগ। সরকারি নথিতে নাবালকদের আসল বয়সের পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্ক বলে দেখানো হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল দেবযানী বোস বলেন, “বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। জানতে পেরেছি, এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হচ্ছে।”
সাংবাদিক সম্মেলনে অগ্নিমিত্রা পালকে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “পড়ুয়াদের ৩০০ টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। আমি যা জানি অ্যাডাল্ট ছাড়া রক্ত দেওয়া যায় না। এছাড়াও কোনও রোগ থাকলে রক্ত দেওয়া যায় না। এই চক্রের সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। আমরা এইগুলি রেয়াত করব না। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।”
