
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পরও লোকসভার স্পিকারের তরফে তাঁদের আলাদা স্বীকৃতি মেলেনি। যদিও গত সপ্তাহের এনডিএ বৈঠকে তাঁদের শরিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এনসিপিআইয়ে নাম লেখালেও কয়েকজন সাংসদের অবস্থান এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। এনডিএ-র পরপর বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে আবু তাহের জানিয়েছেন, তাঁরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গেই রয়েছেন, তবে এনডিএ বা বিজেপির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এদিকে মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজেদের সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ওই বৈঠকে যোগ দেন তিন সাংসদ।
এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে থাকায় সাংসদদের কেউ কেউ ধৈর্য হারাচ্ছেন। কেউ আবার এনডিএ-র শরিক হয়ে থাকার বদলে স্বতন্ত্র্যতা চাইছেন। মুর্শিদাবাদের জেলার তিন সাংসদের দাবি তেমনই। তাঁরা এনডিএ-তে মিশে থাকতে পারবেন না। আবু তাহেরের কথায়, ‘‘সংসদে মুসলিম স্বার্থ বিরোধী কোনও বিল এলে আমরা প্রতিবাদ করব।উন্নয়ন না হলে আমরা থাকব না।” সেই কারণে তাঁদের মূল লক্ষ্য, পৃথক দলের স্বীকৃতি। এর মাঝে দুবার এনডিএ-র বৈঠকে গরহাজির এবং সংসদ চত্বরে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে দেখা, গল্পগুজবের ছবিতে অন্য জল্পনা উসকে উঠেছিল। তিনজন কি আবার মমতা শিবিরে ফিরতে চাইছেন? এনিয়ে যদি কোনও পক্ষ কিছু বলেনি।
মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে এনসিপিআইয়ের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘আবু তাহের আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন। তাঁদের মূল দাবি, এনসিপিআইয়ের স্বীকৃতি পাওয়া। তাহলে তাঁদের কাজ করতে সুবিধা হয়। আমি বলেছি যে এই চেষ্টা আমরা করছি। তবে আমরা ২০ জন একসঙ্গেই আছি। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আমরা ১৯ জন থাকছি। দেব দুবাইয়ে আছেন, উনি আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।”
