
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রীষ্ম হোক কিংবা বর্ষা—আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করে ঘামের তীব্র দুর্গন্ধ। দামি পারফিউম, ডিওডোরেন্ট বা সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করেও অনেক সময় এই সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মেলে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে শুধু পরিচ্ছন্নতার অভাব নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেরও। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার প্রভাব শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং ঘামের রাসায়নিক গঠনের উপর পড়ে। কিছু খাবার শরীরে এমন উপাদান তৈরি করে, যা ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে এসে তীব্র গন্ধের কারণ হতে পারে।
* রসুন: এতে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ রক্তে মিশে যায়। পরে ঘাম ও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে সেই ঝাঁঝাল গন্ধ বের হয়।
* কাঁচা পিঁয়াজ: নিয়মিত কাঁচা পিঁয়াজ খেলে যে কেবল মুখে গন্ধ হয় তা-ই নয়, ঘামেও তীব্র গন্ধ হয়।
* রেড মিট: হজম ও বডি অডর-কে প্রভাবিত করে।
* অতিরিক্ত ঝাল খাবার: ঝাল-মশলা মাত্রাতিরিক্ত খেলে ঘামের গন্ধ তীব্রতর হয়।
* অ্যালকোহল: শরীরে বিশেষ ধরনের তীব্র গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে।
* ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়: অতিরিক্ত কফি বা এনার্জি ড্রিংক ঘামের গন্ধ বাড়িয়ে দিতে পারে।
* প্রক্রিয়াজাত খাবার: এতে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও প্রিজারভেটিভ স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। সেই প্রভাব পড়ে দেহনিঃসৃত ঘামেও।
তবে দেহের উৎকট গন্ধ দূরও করতে পারবে সঠিক খাবারই। কৃত্রিম সুগন্ধী নিয়মিত ব্যবহার করলেও তা খানিক পরেই উবে যেতে পারে। কিন্তু শরীর যদি ভিতর থেকে সতেজ থাকে, তবে ঘামের গন্ধও অস্বাভাবিক হয় না। এ জন্য কোন ধরনের খাবার রাখবেন রোজের পাতে, জেনে নিন।
* ভিটামিন ‘সি’-যুক্ত ফল, যেমন কমলালেবু, পাতিলেবু, বাতাবি লেবু, মৌসম্বি লেবু, গন্ধরাজ লেবু— রোজের খাবারে নানাভাবে যুক্ত করা যেতে পারে। যে কোনও ধরনের বদগন্ধ দূর করতেই অত্যন্ত কার্যকরী ভিটামিন সি।
* আপেল, শসা, তরমুজের মতো ফাইবার ও জলে ভরপুর ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। সহজে দুর্গন্ধ হতে পারে না।
* পানীয় জলের বোতলে দু-একটা পুদিনা পাতা ফেলে রাখা যায়। এতে কেবল ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রিত হবে, তাই নয়। মুখের গন্ধও তৈরি হতে পারে না। ফলে দেহ-মন সতেজ লাগবে।
* টক দইতে থাকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সহায়তা করতে পারে, ফলে ঘামের দুর্গন্ধও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* পালং শাক, লেটুস, ধনেপাতা ও অন্যান্য শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর। একে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ করে পারলে আলাদা করে হজমজনিত সমস্যা কিংবা ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে মাথা ঘামাতে লাগে না।
যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত ঘামের সমস্যা দেখা যায়, তবে তা কখনও কখনও শরীরের কোনও অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যসমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই শুধুমাত্র সুগন্ধি ব্যবহার না করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
