
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উজ্জ্বল, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক এখন আর শুধু ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর করে অর্জন করতে চান না অনেকেই। দই-বেসন, দুধ-চালের গুঁড়ো বা পেঁপের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার এখনও রয়েছে ঠিকই, তবে সময়ের অভাবে আধুনিক প্রজন্ম দ্রুত ফল পেতে ঝুঁকছেন প্রযুক্তিনির্ভর সৌন্দর্যচর্চার দিকে। সেই কারণেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিভিন্ন ধরনের বিউটি ডিভাইস বা আধুনিক রূপচর্চার যন্ত্র।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় পার্লারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোর সুযোগ অনেকেরই থাকে না। আবার বিভিন্ন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের ফল পেতেও অপেক্ষা করতে হয় বেশ কিছুদিন। তাই কম সময়ে কার্যকর ফলের আশায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এমন সব ডিভাইস, যা ঘরে বসেই ত্বকের নানা সমস্যার যত্ন নিতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বিউটি ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস, নিস্তেজ ত্বক, রুক্ষ ভাব, ত্বকের টান কমে যাওয়া কিংবা শরীরের অবাঞ্ছিত লোমের মতো বিভিন্ন সমস্যার যত্ন নেওয়া সম্ভব। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ত্বকের পরিচর্যা আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যস্ত জীবনে সৌন্দর্যচর্চাকে আরও সহজ করে তুলতে কোন ৭টি বিউটি ডিভাইস এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
১। এলইডি ফেস মাস্ক: প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ব্যবহার করেন। আর করবেন না-ই বা কেন!ত্বকচর্চার দুনিয়ায় এই প্রযুক্তিকে এক নতুন বিপ্লবই বলা চলে। লাইট এমিটিং ডায়োড বা এলইডি প্রযুক্তির এই মাস্ক থেকে নির্গত লাল, নীল বা সবুজ আলো ত্বকের গভীর কোষে পৌঁছে কাজ করে। কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করা, বলিরেখা কমানোর পাশাপাশি ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া নষ্ট করতেও এই যন্ত্র কাজে আসে।
দাম: ১৫০০ টাকা থেকে শুরু। তবে প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, ততই বাড়বে দাম। আধুনিক প্রযুক্তির এলইডি ফেস মাস্কের দাম ৫০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২। আইপিএল হেয়ার রিমুভাল ডিভাইস: পার্লারে গিয়ে বারবার ওয়াক্সিং বা থ্রেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে ‘ইন্টেন্স পালস্ড লাইট’ বা আইপিএল ডিভাইস। বাহুমূলে, হাতে পায়ে বা শরীরের যে কোনও অবাঞ্ছিত জায়গারই চুল নির্মূল করতে সাহায্য করে এই যন্ত্র। এটি চুলের গোড়ায় আলোর ঝলক পাঠিয়ে স্থায়ীভাবে চুলের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। ব্যথা ছাড়াই বাড়িতে বসে মেলে মসৃণ ত্বক।
দাম: ৩৫০০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
৩। ইলেকট্রিক ব্ল্যাকহেড রিমুভার: মুখের পোর্স বা লোমকূপে জমে থাকা ময়লা ও ব্ল্যাকহেড্স দূর করা বেশ কষ্টের। সুক্ষ্ম সাকশন প্রযুক্তিসম্পন্ন এই পোর্টেবল যন্ত্রটি ত্বকের কোনও ক্ষতি না করে অনায়াসে ব্ল্যাকহেড্স ও হোয়াইটহেড্স টেনে বের করে আনে, যা ত্বককে দেয় তাৎক্ষণিক জেল্লা।
দাম: ৩০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
৪। ফেসিয়াল স্টিমার: ঘরে বসেই স্পা-এর অনুভূতি পেতে ফেসিয়াল স্টিমারের জুড়ি নেই। মৃদু গরম বাষ্পের মাধ্যমে এটি ত্বকের রোমকূপগুলিকে উন্মুক্ত করে দেয়। ফলে, ভিতরে জমে থাকা তেল ও ময়লা সহজে পরিষ্কার হয়। এ ছাড়া ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্র রাখতে এবং স্ক্রাবিং বা ফেসপ্যাকের পুষ্টি সহজে শুষে নিতে ফেসিয়াল স্টিমার ভাল কাজ করে।
দাম: ৪৫০ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
৫। ফেসিয়াল টোনিং ডিভাইস: বয়সের ছাপ লুকোতে এবং ত্বককে টানটান রাখতে মাইক্রোকারেন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার এখন ট্রেন্ডিং। ফেসিয়াল টোনিং ডিভাইস সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ত্বকের গভীরে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ পাঠিয়ে কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং পেশিগুলিকে উদ্দীপিত করে। ফলে মুখের গড়ন বা ‘জ-লাইন’ আরও স্পষ্ট ও মেদহীন দেখায়।
দাম: ৮০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।
৬। ইলেকট্রিক গুয়াশা: ঐতিহ্যবাহী চিনা রূপচর্চার আধুনিক রূপ হল এই ইলেকট্রিক গুয়াশা। এতে থাকে তাপ ও হালকা কম্পন প্রযুক্তি, যা ত্বকের রক্ত সঞ্চালন দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের ফোলা ভাব কমে, বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায় এবং ত্বকে স্বাভাবিক গোলাপি আভা ফিরে আসে।
দাম: ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত।
৭। মাইক্রোডার্মাব্রেশন টুল: সালোঁ বা ক্লিনিকের দামি ‘স্কিন পলিশিং’ ট্রিটমেন্টের সুবিধা এখন ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব এই যন্ত্রটির সাহায্য। মাইক্রোডার্মাব্রেশন টুলে থাকা সূক্ষ্ম ডায়মন্ড হেড বা এক্সফোলিয়েটিং টিপ এবং জেন্টল সাকশন প্রযুক্তি ত্বকের উপরিভাগের মৃত কোষ সম্পূর্ণ দূর করে। ফলে ত্বকে নতুন কোষ তৈরি হয়, মেচেতা বা দাগছোপ হালকা হয় এবং ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে মুহূর্তে ফিরে আসে উজ্জ্বল মসৃণ ভাব।
দাম: ৫০০০ টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
