
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ষার দিনে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে শুরু হয় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। আর তার মাঝেই একের পর এক বজ্রপাত ও বিদ্যুতের ঝলকানি আতঙ্ক বাড়িয়ে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে থাকলে যেমন সতর্ক থাকা জরুরি, তেমনই ঘরের ভিতরে থাকলেও নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। কারণ, প্রবল বজ্রপাতের প্রভাব বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ওয়াই-ফাই রাউটার কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রেও পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতের লাইনে হঠাৎ অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা 'পাওয়ার সার্জ' তৈরি হতে পারে। এর ফলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। চরম ক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে সার্কিট ব্রেকারের সুইচ বন্ধ করে দেন। এতে কিছুটা সুরক্ষা মিললেও সবসময় এই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বাড়িতে কেউ না থাকলে বা হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন জেনে নিন।
* যদি আবহাওয়ায় ঝড়বৃষ্টির আভাস থাকে, অথবা আবহাওয়া দপ্তর তেমনটা জানায়, তবে সাবধান হতে হবে সময় থাকতেই। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার আগে অবশ্যই সমস্ত ইলেকট্রিক-চালিত যন্ত্রের সুইচ অফ করে দিন। প্লাগও খুলে রাখুন বিপত্তি এড়াতে। যদি বেশ কয়েকদিনের জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে বৃষ্টির আভাস ছাড়াও এই পদ্ধতি অবলম্বন করাই ভালো।
* যদি বাড়িতে থাকেন, তবে বাইরে বাজ পড়ার অবস্থায় কখনওই প্লাগে লাগানো কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করবেন না।
* দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বাঁচাতে ‘সার্জ প্রোটেক্টর’ ব্যবহার করতে পারেন, তবে তা বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়া থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।
* ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে বসাবেন না এই সময়।
* বাড়ির ওয়াই-ফাই কানেকশন ও টিভির কেবল-ও খুলে দেওয়াই ভালো এই অবস্থায়।
* অনেকেই বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুতের দৃশ্য মোবাইলবন্দি করতে চান। তবে এমন সময় জানলার পাল্লা খোলা অবস্থায় কখনওই তার কাছে বসে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করা উচিত নয়।
বৃষ্টি হলেই যে এত সব মেনে চলতে হবে, তা নয়। তবে যদি বাজ পড়ে, ক্রমাগত বিদ্যুতের ঝলকানিতে ভরে ওঠে ঘর, তবে গৃহস্থের সচেতন হওয়াই ভালো। বর্ষাকালে সামান্য সচেতনতা এবং কয়েকটি সহজ সতর্কতাই আপনার মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রীকে বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তাই বজ্রপাত শুরু হলেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ভুলবেন না।
