
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জমি সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং প্রার্থী করার নাম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চলা তদন্তে এবার নজরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়। তদন্তের স্বার্থে শনিবার সকাল থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে শালবনি থানার পুলিশ। এরপর থেকেই তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষার আশায় সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর আইনজীবী। সুমিতের পক্ষ থেকে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি করা হলেও বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে আপাতত আইনি চাপে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী।
মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, এই মুহূর্তে জেলবন্দি সুজয় হাজরা অভিযোগ তুলেছিলেন সুমিত রায়ের তোলাবাজি নিয়ে। ছাব্বিশের ভোটে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া শালবনিতে একটি জমি দুর্নীতি মামলাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সুমিতের। এসব অভিযোগ পেয়ে শনিবার ভোরে সুমিতের খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও সুমিতকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ধরেই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখানেই সুমিতের শেষ মোবাইল টাওয়ারের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। তার দু’দিন পরও অধরা সুমিত রায়।
অভিষেকের আপ্তসহায়ককে নাগালে পেতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আর্জি জানিয়েছিল পুলিশ। মেদিনীপুর আদালত সোমবার সেই আবেদন মঞ্জুর করে। ফলে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। আর তারপরই এদিন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন গ্রহণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। বিচারপতি মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেননি।
