
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘বিকাশও হবে, হিসাবও হবে’ মন্তব্যকে সামনে রেখে এবার তৃণমূল জমানার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৫ জুলাই বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কোনও নেতাই ছাড় পাবেন না। তাঁর কথায়, “যত বড়ই নেতা হোন, দুর্নীতিতে নাম জড়ালে তদন্ত হবেই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানান, “আগামী ২৫ তারিখ ক্যাগ রিপোর্ট তো পেশ হবে। পরবর্তী অধিবেশনে আমরা ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা ও তার যে সুপারিশ রয়েছে, তার উপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেখানে যেখানে দুর্নীতি আছে, ক্যাগ ধরবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন, মন্ত্রী হোন, আর যে যত বড় নেতাই হোন-তার বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য আমরা রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করব।” ২০২০ সালে আমফান পরবর্তী দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি, আমফানের সময় দু’দফায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। আমফানে বড় দুর্নীতি হয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থের মামলাও হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি, হাউসে পেশও করা হয়নি। সেই তদন্ত রিপোর্টে যাদেরকে অভিযুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, সেটাও করা হয়নি।” শুভেন্দু আরও জানান, “সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ইউসিসির জন্য কমিটি হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেই রিপোর্ট চলে আসবে। বিশেষ অধিবেশন বসানোর জন্য, রাজ্যপালের মাধ্যমে সুপারিশ করব, যাতে আমফানের বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট সহ ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা হয়। যারা গতকাল বড় বড় ভাষণ দিয়েছেন এক ঝুড়ি লোক নিয়ে, এবার তাদের মুখোশটাও খোলার সময় এসেছে।”
বিধানসভায় ফের বিরোধী দলনেতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হল। বুধবার বক্তব্য রাখার জন্য উঠে ফের নিজের আসনে বসে পড়েন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের শিবির থেকে পাঠানো বক্তাদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এরপরই বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই মেটাতে হবে। সেই ঝামেলা মেটানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী বা বিধানসভা বসে নেই।” তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বুধবার বিধানসভায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে, কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, ‘‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তা নিয়ে বলার আগে আমি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলতে চাই। আমাদের মানে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বক্তা হিসেবে যাঁদের নাম পাঠানো হচ্ছে, সেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এতে অসুবিধা হচ্ছে। বিধানসভার সদস্য হিসেবে সকলের নির্দিষ্ট সময় আছে বক্তব্য রাখার জন্য। কে, কখন বলবেন, তা যদি আগে থেকে জানা যায়, তাহলে সুবিধা হয়। এটা নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘এখানে অনেকগুলো দল আছেন। কালীঘাটপন্থী আছেন। আরও অনেক বিরোধী দল – আইএসএফ, সিপিআইএম, কংগ্রেস সবাই আছে। আমরা চাই, সকলের বক্তব্যের সময় ভাগাভাগি করে দিক। আমি নিজে ৫ বছর বিরোধী দলনেতা ছিলাম। আমাদের চিফ হুইপ আছেন, তিনি হাউসে বলার টাইম দেন। আপনাদের নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান। এখানে তো মুখ্যমন্ত্রী বসে নেই সেই ঝগড়া মেটানোর জন্য।নিজেরা ঝগড়া মেটান আর সুষ্ঠুভাবে অধিবেশন চলতে দিন।”
সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের মধ্যে বাংলার ১১ জন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা, যার মধ্যে ৯ জন মালবাজার এলাকার। দুর্ঘটনায় এখনও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনা নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিধানসভায় তিনি জানান, “ইতিমধ্যেই সিকিমের ঘটনাস্থলে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে পাঠিয়েছি। ওঁরা সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। সমস্ত আপডেট আমি চেয়েছি। উদ্ধারকাজের জন্য সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।” সেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ‘সম্রাজ্ঞী’ বলে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আগে তো রাজ্য সরকারের প্লেন শুধু একজন সম্রজ্ঞী ব্যবহার করতেন। আমরা প্রয়োজনে উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে সিকিমে আমাদের সরকারি বিমান পাঠাব বলে জানিয়েছি।” অন্যদিকে, উদ্ধারকাজ নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কোনও মৃত্যুর পরিপূরক যদিও নয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াও মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলাস্টিয়ারের কাজ দেওয়া হবে।”
সোমবার সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ধস নামে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মিথেন গ্যাস লিক করার কারণেই বিষাক্ত গ্যাস লিক করার পরেই সুড়ঙ্গের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। ধসে নেমে সুরঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।ইতিমধ্যেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিং তামাং অর্থ সাহায্য ঘোষণা করেছেন মৃত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য। মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ও আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করেছে সিকিম সরকার। কেন্দ্রের তরফেও পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। প্রশাসন সূত্রে খবর, গোটা সুরঙ্গে মিথেন গ্যাস ভরে থাকায় অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া উদ্ধারকারীরা ভিতরে ঢুকতেই পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নেমে কয়েক জন উদ্ধারকারী মিথেন গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
