
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হল লোকসভা। বিজেপি সাংসদ তথা সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্র ও বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে ‘অসংসদীয়’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ওই মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর তরফেও একই ধরনের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে হট্টগোলের জেরে লোকসভার অধিবেশন দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
ঠিক কী বলেছেন রাহুল? এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাহুলকে বলতে শোনা যায়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারীরা দেশের গর্ব। তারা কোনও ঘৃণাভাষণ দেয়নি। এরপরই এক তরুণীর বক্তব্য তুলে ধরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”(অসংসদীয় ভাষা)-রা যুবদের কথা শোনে না।” পরে তিনি বিজেপি সমর্থকদের ‘অন্ধ ভক্ত’ বলেও তোপ দাগতে দেখা যায় তাঁকে। রাহুলের এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পরে রাহুল বলেন, ওই শব্দ সরকারের উদ্দেশে তিনি ব্যবহার করেননি। এবং ওই শব্দগুলি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক। এদিন রাহুলের খোঁচা, আন্দোলনকারীরা ‘অন্ধ ভক্ত’ হতে চায় না বলেই তারা সরকারের রোষে পড়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের ভয় সত্ত্বেও বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও খোঁচা দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, ”তথাকথিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহস হল না লোকসভায় এসে বসার।”
এদিন রাহুলের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি বলেন, যতক্ষণ না কংগ্রেস সাংসদ কোনও তথ্য তুলে ধরছেন তাঁর কোনও মন্তব্যই রেকর্ডে রাখা হবে না। এমনকী, তিনি তাঁর কথা না শুনলে পরবর্তী বক্তাকে এখনই ডেকে নেওয়া হবে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। সেই সময় নেপথ্যে কংগ্রেস সাংসদদের চেঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ”রাহুলজিকে বলতে দেওয়া হোক।” কিন্তু এনডিএ সাংসদরা প্রতিবাদ করতেই থাকেন। পরে স্পিকার আড়াইটে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।
