
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে নতুন বিতর্কে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। তাঁর জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, হলফনামায় হাসিরানির জন্মসাল এবং মাধ্যমিক পাশের সাল সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, হলফনামায় সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে কংগ্রেস। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে বিষয়টি বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের নজরে আনা হয়। জানা গিয়েছে, মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। আগামী বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ আদালতে কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে নজর থাকছে রাজনৈতিক মহলের।
আগামী ৬ অক্টোবর হেভিওয়েট নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপ নির্বাচন রয়েছে। খোদ শুভেন্দু অধিকারীর নিজ গড় নন্দীগ্রামে বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। যিনি কিনা মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের সাথী তথা আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। কিন্তু তাঁর জমা দেওয়া হলফনামা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রদেশ কংগ্রেসের আইনজীবীর বক্তব্য, হলফনামায় জন্ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, বর্তমানে হাসিরানি রথের বয়স ৬০ এর বেশি। সেই অনুযায়ী ১৯৬৬ সালে জন্ম। এদিকে মাধ্যমিক পাশ দেখানো হচ্ছে ১৯৬৫ সালে। ফলে কীভাবে জন্মের আগে মাধ্যমিক পাশ! তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস।
এরপরেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নথিও আদালতে জমা দিয়েছেন কংগ্রেসের আইনজীবী। তাঁর আবেদন, অবিলম্বে হাসরানি রথের প্রার্থীপদ খারিজ করা হোক। আইনজীবীর কথায়, নির্বাচন কমিশন হলফনামা যাচাই করলেও এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে প্রার্থীপদ খারিজের আবেদন জানানো হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করলেও এদিন শুনানি হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। বলে রাখা প্রয়োজন, এই বিষয়ে গত মঙ্গলবারই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ জানান। শুধু তাই নয়, তদন্তের দাবিও জানানো হয়। কিন্তু এরপরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ প্রদেশ নেতৃত্বের। এরপরেই এদিন বিচারের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ কংগ্রেস।
