West Bengal

43 minutes ago

CM Suvendu Adhikari: পূর্ব বর্ধমানে কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর! ধানে ২৭০০ টাকা, মিলবে ভর্তুকিও

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  শস্যশ্যামলা বাংলার অর্থনীতিতে কৃষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেই কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আগে কৃষকদের জন্য বিদ্যুৎ খরচে বড়সড় স্বস্তির কথা জানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বছরে বিদ্যুৎ খাতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রায় ৪ লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের পিএম কিষাণ সম্মান নিধিতে বছরে ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে রাজ্য সরকার কৃষকদের ৯ হাজার টাকা করে দেবে। ধানচাষিদের জন্যও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে রাজ্য সরকারই সমস্ত ধান কিনবে এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে প্রতি কুইন্টালে ২৭০০ টাকা দেওয়া হবে। ধান বিক্রির ক্ষেত্রে দালাল বা ফড়েদের কোনও ভূমিকা থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিধায়কদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের বার্তা দিয়ে তাঁদের ‘চাষিদের পাহারাদার’ হিসেবে কাজ করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

পূর্ব বর্ধমানকে ‘গর্বের শস্য ভান্ডার’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে বছরে ৬ হাজার করে পেতেন কৃষকরা। আমরা ভেরিফিকেশন করেছি। আবেদনকারীদের যুক্ত করে ৬ হাজারের সঙ্গে আরও ৩ হাজার যোগ করে মোট ৯ হাজার পাবে।” তিনি এও জানিয়েছেন, “৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে। যাদের জমি আছে, তারা ৪ হাজার টাকা পাবেন এক বছরে। বেশি জমি যাদের, তাদের ৬ হাজার দেবে সরকার। ৫ একর পর্যন্ত যাদের জমি আছে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে ২৭০০ টাকা ক্যুইন্টাল প্রতি ধান কিনবো।” এদিন ধানের ব্যবসায় যুক্ত ‘মিডলম্যান’ ফড়েদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রীর। মেমারিতে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, “কৃষকদের বঞ্চিত করার জন্য কোনও দালাল, রাইসমিলের মাফিয়া, ২ নম্বর লোক থাকবে না। সমস্ত ধান কিনবে সরকার। ১০০ কুইন্টাল ধান দিলছ ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে।” আলুচাষিদের উপর দিনর পর দিন অত্যাচারের বিরুদ্ধে এদিন তৃণমূল সরকারকে বিঁধে শুভেন্দু বলেন, “আলুচাষিদের উপর অত্যাচার করেছে বিগত সরকার। সারের কালোবাজারি, সীমানা বন্ধ করা, হিমঘরের উপর অত্যাচার করেছে। আলু চাষিদের জন্য সরকারি ভর্তুকি আসবে। ডিসেম্বরেই আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ আসতে চলেছে।” 

এরপরই বালি পাচার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ভোটের আগে বালি জমিয়েছিল। ভেবেছিল পরে ব্যবসা হবে। কিন্তু জিততে তো পারেনি। আর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সব বন্ধ করে দিয়েছি।” এরপরই অভিষেক সরাসরি বালি দুর্নীতিতে জড়িত বলে দাবি করলেন তিনি। বললেন, “বালি পাচারের টাকা সরাসরি যেত ক্যামাক স্ট্রিটে।”  এদিন শুভেন্দু বলেন, “অক্টোবর থেকে বালি খাদান চালু হলেই রেট কমে যাবে। পশু হাট চালু করেছি। পশু হাটে গোমাতার উপর অত্যাচার করতে দেব না। দুগ্ধপালকদের গরু কেনাবেচায় ছাড় দিয়েছি।” নেশামুক্ত বাংলা গড়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “মাদককারবারীদের ২০ বছর জেল খাটাবো।” ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে, লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধেও আইন আসবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তাঁর মুখে শোনা যায় দুর্গাপুজো প্রসঙ্গও। আরও একবার তিনি বললেন, “পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজো করতে দেব না। অষ্টমীর দিন কোনও মদের দোকানে খোলা যাবে না। ডিজে সংস্কৃতি থেকে বাংলাকে বের করে আনতেই হবে।”

পাশাপাশি এদিন পূর্ব বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার উপভোক্তাদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুতে ভর্তুকি ও সূর্যঘর প্রকল্পের চেক তুলে দেন। ভাতারে ১২৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার প্রকল্প। রাজ্যের আরও তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন ৩৩ কোটি টাকা। সাব স্টেশন রাজপুর সোনারপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণপুর সহ তিনটি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ার ইডেন খালের উপর সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। এদিন পূর্ব বর্ধমানে দাঁড়িয়ে ১২৫ দিনের জি রাম জি প্রকল্পের কাজ, অন্নপূর্ণা থেকে আবাস, আয়ুষ্মান থেকে জলজীবন মিশন প্রকল্পের রাজ্যবাসীর জন্য সরকারের ঢালাও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি, লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধে আইন আনার কথাও এদিন আরও একবার মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী।  

You might also like!