
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সিআইডির তলবে হাজিরার কয়েক ঘণ্টা আগেই সমাজমাধ্যমে রহস্যময় পোস্ট। ক্যানিং পশ্চিমের ঋতপন্থী বিধায়ক পরেশরাম দাস লেখেন, ‘আলবিদা ক্যানিং, ফিরে দেখা হবে, কথা হবে’। তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় নানা জল্পনা। এর পর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে পৌঁছে যান পরেশরাম দাস। হাজিরার আগে কেন এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন তিনি, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা ও চাপানউতোর। পোস্টটির মাধ্যমে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি বিধায়ক।
গত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে বিরোধীদের উপর হামলা, বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পরেশরামের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চায়েতে নিজেদের পছন্দের সদস্য ও প্রধানকে বসানোরও অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। এরই মধ্যে পরেশরামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসায় গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৩-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে পঞ্চায়েত সদস্যের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন পরেশরাম। ওই মহিলার দাবি, টাকা দিয়ে অস্বীকার করায় ওই মহিলাকে বিধায়ক আটকে রেখে নির্যাতন করেছিলেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশের কাছে গেলেও তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও মামলা দায়ের করেনি পুলিশ। ঘটনার প্রায় ৩ বছর পার। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। ক্যানিংয়ের এসডিপিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে ক্যানিং থানা। এবার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একের পর এক সিআইডির সমন যায় বিধায়কের কাছে। তিনবার হাজিরা এড়িয়ে আইনজীবী মারফত চিঠি দিয়েছেন তদন্তকারীদের। তবে চতুর্থবারের তলবে সাড়া দিলেন বিধায়ক।
