
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ে ঠিক হতে হতে বারবার ভেঙে যাচ্ছে? একের পর এক পাত্র বা পাত্রী দেখার পরও কোনও সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়াচ্ছে না? এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভাগ্য, জ্যোতিষ কিংবা গ্রহ-নক্ষত্রকে দায়ী করেন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী জন্মছকে শুক্রের অশুভ অবস্থান বা বৃহস্পতির দুর্বলতা বিবাহে বিলম্বের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র গ্রহের অবস্থানই নয়, বাড়ির বাস্তুদোষও এই সমস্যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাস্তুশাস্ত্র বলছে, বাড়ির দিকনির্দেশ, শোওয়ার ঘরের অবস্থান, আসবাবপত্রের বিন্যাস কিংবা কিছু নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বৈবাহিক যোগকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘদিন ধরেও বিয়ের সম্বন্ধ চূড়ান্ত হচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে শয়নকক্ষের বাস্তু এবং বাড়ির উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের ভারসাম্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাস্তুশাস্ত্রে রয়েছে এর সহজ প্রতিকার, যা দূর করতে পারে এই সমস্যা।
১. সঠিক দিক নির্দেশ— বিবাহযোগ্য যুবক বা যুবতীদের জন্য শোওয়ার ঘর নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু অনুযায়ী, গৃহের উত্তর-পশ্চিম অর্থাৎ ‘বায়ব্য কোণ’ তাঁদের শয়নকক্ষের জন্য সবচেয়ে শুভ। তা সম্ভব না হলে উত্তর দিকে বা ঈশান কোণের উত্তর-পশ্চিম অংশে শোওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অন্য দিকে, দক্ষিণ বা নৈঋত্য কোণে ঘুমালে বিয়ের কথায় বারবার বিঘ্ন ঘটতে বাধ্য।
২. ঘরের রং ও সাজসজ্জা— শয়নকক্ষের রং হওয়া উচিত হালকা ও মনোরম। হালকা গোলাপি রং ঘরের আবহ সুন্দর রাখে। তবে গাঢ় নীল, বাদামি বা কালো রং এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এগুলি ঘরে নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি করে। দেওয়ালে রাখতে পারেন রাধা-কৃষ্ণ, শিব-পার্বতী কিংবা কোনও সুখী দম্পতির ছবি। শয়নকক্ষের ঠিক বাইরে টাঙাতে পারেন পিওনি ফুলের ছবি। বাস্তুতে একে শুভ বিবাহের প্রতীক বলে মনে করা হয়।
৩. শুভ বস্তুর প্রয়োগ— পারিবারিক ও মানসিক মেলবন্ধন মজবুত করতে শয়নকক্ষে রাখা যেতে পারে এক জোড়া ম্যান্ডারিন হাঁসের মূর্তি। ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দুটি ‘অ্যাক্টিভেটেড ক্রিস্টাল’ রাখলেও মিলতে পারে ভালো ফল। তবে মনে রাখবেন, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছুরি, কাঁচি বা কোনও ধারালো জিনিস রাখা একেবারেই নিষেধ।
৪. বিছানার অবস্থান ও সতর্কতা— বিছানা কখনও দেওয়ালে একদম ঘেঁষে রাখা উচিত নয়। ঘরের বিমের ঠিক নিচে ঘুমোনো মানসিক উদ্বেগের সৃষ্টি করে, যা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। বাস্তুর এই ছোট ছোট নিয়ম মেনে চললে দূর হতে পারে বিবাহের বাধা।
তবে মনে রাখা জরুরি, জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্র বিশ্বাসের বিষয়। এগুলির কোনও দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই বাস্তু মেনে চলার পাশাপাশি নিজের মানসিক প্রস্তুতি, পারিবারিক আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় সামান্য কিছু পরিবর্তন ও ইতিবাচক মনোভাবই কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার পথকে সহজ করে তুলতে পারে।
