Technology

1 hour ago

Monsoon Appliance Care: বর্ষায় ১৮ ডিগ্রিতেও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? এসি নয়, সমস্যার কারণ হতে পারে এই ভুল অভ্যাসগুলি

Monsoon AC Cooling Tips
Monsoon AC Cooling Tips

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বর্ষাকালে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। তাই অনেকেই অবাক হন, এসির তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে সেট করেও ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হচ্ছে না কেন! তখন অনেকেরই ধারণা হয়, হয়তো এসিতে কোনও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর জন্য যন্ত্র নয়, দায়ী থাকে কিছু সাধারণ ব্যবহারগত ভুল। বর্ষার সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এসিকে শুধু ঘর ঠান্ডা করলেই হয় না, একই সঙ্গে অতিরিক্ত আর্দ্রতাও কমাতে হয়। ফলে যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং ঠান্ডা হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। তাই এই সময় এসির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। 

∆ বর্ষায় কী কী কারণে এসি-র কর্মক্ষমতা কমে যায়?

যন্ত্রে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, অথচ ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না। স্যাঁতসেঁতে হয়ে রয়েছে। দোষ এসি-র নয়, বরং আবহাওয়ার। বর্ষায় আর্দ্রতা এতই বেড়ে যায় যে, বাতাস ভারী হয়ে থাকে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রকে একইসঙ্গে হাওয়া ঠান্ডা করা এবং আর্দ্রতা দূর করার কাজ করতে হয়। ফলে ঠান্ডা হওয়ার গতি খানিক শ্লথ হয়ে যেতে পারে। চাপ পড়ে এসি-র উপর।

∆ কী কী করণীয় এ ক্ষেত্রে?

১. ছাঁকনি পরিষ্কার: সবার আগে নজর দিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ছাঁকনির দিকে। দীর্ঘদিন ফিল্টার পরিষ্কার না করলে ধুলো জমে বাতাস চলাচল বাধা পায়। বর্ষায় ধুলো জমার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ফলে যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং ঘর ঠান্ডা হতেও বেশি সময় লাগে। তাই বর্ষাকালে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা জরুরি।

২. ঘর নিশ্ছিদ্র রাখা: জানালা ও দরজা যথাসম্ভব নিশ্ছিদ্র রাখুন। বাইরে থেকে গরম ও আর্দ্র বাতাস ঢুকতে থাকলে যন্ত্রকে বার বার একই কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়ে যায়।

৩. ড্রাই মোড অন: ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য অনেকেই ১৮ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা নামিয়ে দেন। কিন্তু সব সময়ে এত কম তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না। ২৪-২৬ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা রাখলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘর শীতল হয়ে যায়। বরং ‘ড্রাই মোড’-এ রাখলে হাওয়া শুষ্ক হতে পারে। তাতে ঘর ঠান্ডাও দ্রুত হয়।

৪. সিলিং ফ্যান: এসি-র সঙ্গে যদি ফ্যান চালানো যায়, তা হলে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খরচও তুলনামূলক কম হয়। তবে ফ্যানের গতি কম রাখলেও একই কাজ হবে।

৫. আউটডোর ইউনিট: শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের বাইরের ইউনিটে যদি ধুলো, শুকনো পাতা বা অন্য কোনও জিনিস জমে যায়, তা হলেও ঘর শীতল করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই বাইরের অংশটিও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।

৬. সার্ভিসিং: যদি যন্ত্রটি অনেক পুরনো হয়, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করানো হয় বা গ্যাসের পরিমাণ কমে যায়, তা হলেও শীতল করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক ঋতুতেই পেশাদার কর্মীর সাহায্য নিয়ে যন্ত্র পরিষ্কার বা সার্ভিস করিয়ে নেওয়া উচিত।

যদি এসব নিয়ম মেনে চলার পরও ঘর যথেষ্ট ঠান্ডা না হয়, তাহলে এসির গ্যাসের মাত্রা, আউটডোর ইউনিট বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা একজন প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

You might also like!