
কলকাতা, ১৪ জুলাই : ২০২৬ বিশ্ব কাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। ভারতীয় সময় আগামী ১৫ জুলাই, রাত ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ লড়াই। এই লড়াই শুধু মাঠের নয়, এই লড়াই খেলোয়াড়দের বাজার মূল্যের দিক থেকেও হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল।
কারণ এই সেমিফাইনালের দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এই বিশাল অঙ্কের মধ্যেও দুই দলের মধ্যে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ব্যবধান রয়েছে। বাজারমূল্যে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। তাদের স্কোয়াডের মোট মূল্য প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে স্পেনের স্কোয়াডের মূল্য প্রায় ১.৪৩ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে মূল্যবান পাঁচ ফুটবলারের মধ্যে চারজনই খেলবেন এই সেমিফাইনালে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলার। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে রয়েছেন প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার মূল্য নিয়ে। ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল অলিসে এবং স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রি গঞ্জালেস দুজনেরই বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া দুই দলের স্কোয়াডে আরও সাতজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের বাজারমূল্য ১১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি। পুরো দুই দলে অন্তত ২২ জন ফুটবলারের বাজারমূল্য ৫৮ মিলিয়ন ডলারের ওপরে। এর মধ্যে সাতজন স্পেনের এবং বাকি ১৫ জন ফ্রান্সের।
গোলকিপার বিভাগ : এগিয়ে স্পেন:
এই বিভাগে এগিয়ে স্পেন। তাদের তিন গোলরক্ষকের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১১৪ মিলিয়ন ডলার। আর ফ্রান্সের গোলকিপারদের মোট মূল্য ৬৭ মিলিয়ন ডলার।
রক্ষণভাগ: এগিয়ে ফ্রান্স:
এই বিভাগে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। তাদের ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার, যা স্পেনের ৩৩৭ মিলিয়ন ডলারের রক্ষণভাগের চেয়ে অনেক বেশি।
মিডফিল্ড: এগিয়ে স্পেন:
এই বিভাগে অবশ্য এগিয়ে স্পেন। তাদের মিডফিল্ডারদের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৯১ মিলিয়ন ডলার। আর ফ্রান্সের মিডফিল্ডের মূল্য প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার।
আক্রমণ ভাগ: এগিয়ে ফ্রান্স:
এই বিভাগে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল স্পেনের হয়ে খেললেও সামগ্রিকভাবে আক্রমণভাগে অনেক এগিয়ে ফ্রান্স। তাদের উইঙ্গার ও স্ট্রাইকারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৮৭৭ মিলিয়ন ডলার। আক্রমণে গভীরতা ও বিকল্পের আধিক্যই এই বিশাল পার্থক্যের কারণ।
সুতরাং, ফ্রান্স ও স্পেনের এই সেমিফাইনাল শুধু বিশ্বকাপের নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল হিসেবে রেকর্ড গড়তে চলেছে!
