
কলকাতা, ১৪ জুলাই : ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসের প্রথম মহিলা টেস্টে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে হারমানপ্রিত কৌরের দল। ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে গুঁড়িয়ে এই টেস্ট স্মরণীয় করে রাখল ভারত। শেষ দিনে সোমবার প্রয়োজন ছিল স্রেফ চারটি উইকেট। প্রথম সেশনেই তা আদায় করে নেয় হারমানপ্রিতের দল। টেস্টের চার দিনে দর্শক সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৮৪৬ জন। মহিলা টেস্টের ১৫৩ ম্যাচের ইতিহাসে এক ম্যাচে এত দর্শক হয়নি আগে। এই টেস্ট দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি ট্যামি বাউমন্ট ও হিদার নাইট। শেষটা ভালো তাদের হয়নি। দল হেরেছে, পারফর্ম করতে পারেননি তারা নিজেরাও। টেস্টের প্রথম দিনেই জয়ের ভিত গড়ে ছিল ভারত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ছিল ভারত।
ওপেনার শেফালি ভার্মা শূন্যতে ফিরলেও মান্ধানার ব্যাট থেকে আসে ১০৮ বলে ৮৩ রানের নান্দনিক ইনিংস। হারমানপ্রিত করেন ৫৮, দিপ্তি শার্মা ৫৭। ভারত প্রথম ইনিংসে তোলে ২৮৫ রান। ১১ রানে শেষ ৪ উইকেট হারালেও ভারতের সেই সংগ্রহ যে যথেষ্টই বড় ছিল। ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে গুটিয়ে যায় ১৭০ রানে। একমাত্র ফিফটি আসে কিপার-ব্যাটার অ্যামি জোন্সের (৫২) ব্যাট থেকে। ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসের বিখ্যাত টেস্ট অনার্স বোর্ডে নাম লেখান ভারতের ২২ বছর বয়সী পেসার ক্রান্তি গৌড়। ১১৫ রানের লিড পাওয়া ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ভালো রানের লিড নেয়। মান্ধানা আবার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে উপহার দেন ৭০ রানের ইনিংস। শেফালি করেন ৩৩ রান। তবে ইতিহাস গড়েন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। লর্ডসের প্রথম মহিলা টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হয়ে ব্যাটারদের অনার্স বোর্ডে নাম তোলেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। ১৫৮ বলে ১১৩ রান করেন এই বাঁহাতি। রিচা ঘোষ অপরাজিত থাকেন ৫২ বলে ৫০ করে। ভারত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৩৪১ রানে।
১১৮ রানে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন। ৪৫৭ রানের জয়ের লক্ষ্য ছিল ইংলিশদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ৫৯ রানেই ৫ উইকেট হারানোর পর কেবল ব্যবধান কমানোর চেষ্টাই করে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করেন জোন্স (৫৪)। প্রথম টেস্ট ফিফটির স্বাদ পান আটে নামা এক্লেস্টোন (৫০)। ১৮৬ রানে শেষ হয় ইংলিশদের ইনিংস। ভারতের অফ স্পিনার স্নেহ রানা শিকার করেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসের ৫টি সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২ শিকার যোগ করে প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হন ক্রান্তি।
