kolkata

1 hour ago

Ritabrata Banerjee: ‘২১ জুলাইয়ের মঞ্চ শুধু শহিদদের’, নাচ-গান নয়—ঋতব্রত শিবিরের বার্তায় বদলে যাচ্ছে সমাবেশের ছবি

Ritabrata Banerjee
Ritabrata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে ঘিরে এবার রাজনৈতিক আবহ সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের গুলিতে নিহত কংগ্রেস কর্মীদের স্মরণে আয়োজিত এই কর্মসূচি গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পালিত হয়েছে। তবে অতীতে শহিদ পরিবারগুলির পরিবর্তে মঞ্চে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি বদলেছে। নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক বিভাজনের আবহে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির গান্ধীমূর্তির পাদদেশে পৃথকভাবে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই সমাবেশে শহিদ পরিবার ও তৃণমূলের তৃণমূলস্তরের কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতি সভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ হবে তাঁদের জন্য, যাঁরা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র শহিদদের স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে; কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা বিনোদনের আয়োজন রাখা হবে না। 

তৃণমূল কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানে গতবছর পর্যন্ত একুশের ‘শহিদ স্মরণ’ মেগা ইভেন্টের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। মঞ্চে আড়ম্বর যেমন। আয়োজনেও কমতি থাকত না। সকাল থেকে শুরু হত গান-বাজনা। বেলা বাড়লেই শো-টপার হিসেবে এন্ট্রি নিতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ সমাবেশের মঞ্চে কার্যত টলিউডের ‘চাঁদের হাট’ দেখতে লাখো লাখো মানুষের ভিড়ে রেড রোডে সেদিন জনসমুদ্র। তাঁদের সঙ্গে করে রীতিমতো র‌্যাম্প-ওয়াক করতেন তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসবের মাঝে শহিদদের উদ্দেশে ফুল-মালাও অর্পণ করা হত বৈকি! সমালোচকরা অবশ্য তেমনটাই বলে এসেছেন এতকাল। 

এবার আসল তৃণমূলের স্রষ্টা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথাতেও একই ক্ষোভের সুর। একুশের জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “মঞ্চ নাচা-গানার নয়, মঞ্চে সেলিব্রিটিদের জায়গা নেই। থাকবে শহিদ পরিবারের লোক। সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে তাঁদেরই। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে, নিয়ম লঙ্ঘন না করেই অনুষ্ঠান করব।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, “পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত তৃণমূল স্তরের কর্মীদের জন্য পার্টি ফান্ডের কত টাকা, কোথায় খরচ হয়েছে, একুশের মঞ্চ থেকেই আমরা জবাব চাইব।” এদিন সমাবেশে জমায়েত প্রসঙ্গে ঋতব্রত জানান, “তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের উপর আমার ভরসা আছে। কারা আমাদের সঙ্গে আছেন, দেখার জন্য একুশে জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে জোর দেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই ছয় জেলার নেতাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২১ জুলাইকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে নয়, বরং দলের ইতিহাস, আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রতিটি জেলা তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে কলকাতায় আনার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে। বুথ থেকে ব্লক এবং জেলা স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। সমাবেশকে ঘিরে পরিবহণ, কর্মী সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং জনসমাগম নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নেতৃত্বের আশা, বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি দলের সাংগঠনিক শক্তির বড় বার্তা তুলে ধরবে।  

You might also like!