
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গরুপাচার মামলায় দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর জেলবন্দি থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অনুব্রত মণ্ডল। বুধবার গোলপার্কে ঋত-তৃণমূলের বৈঠকে প্রথমবার যোগ দেওয়ার আগে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ঘটনাবলির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়ী। অনুব্রতর দাবি, একসময় বীরভূম থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হতো। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, পরে কয়লা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছিল। এদিন দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না এবং দল ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে বরাবর অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন একমেবদ্বিতীয়ম। তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটির দলীয় সংগঠন এতদিন ধরে জেলায় গেরুয়া প্রবেশ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকী গরু পাচার মামলায় প্রায় ২ বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে জেলা সভাপতির পদটি অটুট রেখেছিলেন মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’। শেষ লোকসভা ভোটেও বীরভূমের দুটি আসন ধরে রেখেছিল তৃণমূল, তা অনুব্রতর তৈরি শক্ত সংগঠনের উপর দাঁড়িয়েই। পরে অবশ্য জেলা গোষ্ঠীকোন্দল বাড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এককভাবে কেষ্টর উপর দায়িত্বভার ছাড়েননি। বীরভূমের সংগঠন দেখার জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন কোর কমিটি। অনুব্রত তাতে একজন সদস্যমাত্র ছিলেন। সেই থেকে ক্ষোভের সঞ্চার। এতদিন পর তা প্রকাশ্যে আসে।
ছাব্বিশের ভোটে দলের হতশ্রী ফলাফলের পর দলে ভাঙন নিয়ে অনুব্রতর মন্তব্য ছিল, ‘‘নতুন-পুরনো জানি না, আমি তৃণমূলকে ভালোবেসে দলটা করি। সম্মানের সঙ্গে দলের কাজ করব।” তার কয়েকদিনের মধ্যেই ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন বলে শোনা যায়। গত ১১ জুলাই, আনুষ্ঠানিকভাবে অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। এই দায়িত্ব একসময়ে তিনি একাই সামলেছেন। এরপর বুধবার ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকেও যোগ দিলেন অনুব্রত।
