
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হলেন বারাসতের কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ন্যায়বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। বুধবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত জনতার দরবার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই কামদুনিতে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মৃত কলেজ ছাত্রীর মা ও ভাই বিচার চেয়ে তাঁর কাছে আবেদন জানান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কামদুনি আন্দোলনের পরিচিত মুখ মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়াল। পরিবারের কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, কামদুনির ঘটনার বিচার হবে। সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা বিচারাধীন আছে। আদালতে রাজ্যের তরফে কোনও বিরোধিতা হবে না। রাজ্যের তরফে আইনজীবীরা পরিবারের পাশে থাকবেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরই কামদুনি মামলার ফের তদন্তের দাবি তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানান, ফের খুলবে কামদুনি ফাইলস। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর আশ্বস্ত হয়েছেন নির্যাতিতার মা ও ভাই। এবার মেয়ের মৃত্যুর বিচার হবে, সেই আশায় বুক বেঁধেছেন নির্যাতিতার মা।
তৃণমূল জমানায় বারাসতের কামদুনির ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। ২০১৩ সালে কামদুনিতে এক ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্রীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল এলাকায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেসময় কামদুনি গিয়েছিলেন। বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছিল তাঁর সামনেও। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মাওবাদীরা আছে, এমনই মন্তব্য করেছিলেন তিনি! টুম্পা ও মৌসুমিকেও পরবর্তীকালে তৃণমূলের রোষানলে একাধিকবার পড়তে হয়েছিল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর মৌসুমি কয়াল, টুম্পা কয়ালরা জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী সবই জানেন, ওনার অজানা কিছুই নয়। কামদুনির আন্দোলন কেবল আমাদের ছিল না, মুখ্যমন্ত্রীরও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীও কামদুনি আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। দ্রুত কামদুনি ফাইলস খোলা হবে। একমাসের মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।”
