
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ইডির থেকেও অভিষেক বেশি ভয়ঙ্কর’—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। মদনের দাবি, অভিষেকের সিদ্ধান্তই দলের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে উঠেছিল এবং তাঁর আচরণ নিয়ে অনেকেই আতঙ্কে থাকতেন। এমনকী তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও সবসময় মানেন না বলে অভিযোগ করেন মদন। তিনি আরও বলেন, অভিষেক নিজের মতো করে দল চালাতে চান এবং অন্য কারও মতামতের গুরুত্ব দেন না। পাশাপাশি, অভিষেককে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন কামারহাটির বিধায়ক।
আজ বুধবার বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের শিবিরে যোগ দেন মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলেই থাকছেন। শুধু দলের অফিসিয়াল গোষ্ঠীর হাত ধরেছেন। মদন বলেন, “তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায় তাহলে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।”
কালীঘাট তৃণমূল ছাড়লেও মমতাকে সম্মান জানান মদন। তিনি জানান, পার্টিটা শুধু অভিষেকের নয়, কর্মীদের। যতদিন যাচ্ছে মমতার হাত ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তাঁর সহযোগীরা। তাঁর কথায়, “মমতা এগিয়ে যেতেন, ছায়াকে অনুসরণ করতাম। কিন্তু সেখানে থেকে কাজ করতে পারছিলাম না।” তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়েও কটাক্ষ করেন মদন মিত্র। আজই কলকাতা হাইকোর্ট কালীঘাট তৃণমূল শিবিরকে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি দিয়েছে। তবে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। এই সভায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। এপ্রসঙ্গে মদন জানান, এই নির্দেশ দিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের সম্মান রক্ষা করেছে আদালত। তাঁর কথায়, “বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে আড়াই হাজার লোক বাদাম বেঁচেন।”
