
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলগুলির জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল শুভেন্দু সরকার। দীর্ঘদিন আর্থিক অনুদান না পাওয়ার পর এবার কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট ফান্ডের আওতায় রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে মোট ২৯৬ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই অর্থ স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি, ১ আগস্ট থেকে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে নতুনভাবে মিড ডে মিল পরিষেবা চালু করতে চলেছে ইসকন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত ডিমও দেওয়া হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) মাধ্যমে সেই ডিম সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মিড ডে মিলের বরাদ্দে এতদিন যে বৈষম্য ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রাথমিক স্তরে প্রতি পড়ুয়ার জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা, আর উচ্চ প্রাথমিক ও হাই স্কুলে ছিল ১০ টাকা। এখন থেকে প্রাথমিক স্তরেও প্রতি পড়ুয়ার জন্য ১০ টাকা বরাদ্দ করা হবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকেই কলকাতার বেশ কিছু সরকারি স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল পরিবেশন শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে এই পরিষেবা রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা বলেন, “গত সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুলে শিক্ষার মান কমেছে। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা উচ্চশিক্ষা বিভাগ আলাদা করেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, “রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুল মুখী করা এবং প্রতিযোগিতার যুগে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সমতুল্য করতে না পরালে অভিভাবকরা বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকবেন। তাই সরকারি স্কুলগুলিকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।” নতুন সরকারের আমলে স্নাতকে ভর্তির হার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, “এরাজ্যে শিক্ষার বাজারিকরণ বা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করার মতো সুপ্ত চক্রান্ত হয়েছে গত সরকারের আমলে। জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পর বহু ছাত্রছাত্রীরা বাইরে চলে যায়। মেধার ভিত্তিতে দ্রুত ভর্তি ব্যবস্থা চালু করায় উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। মাধ্যমিকের পরেও ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষিত করতে পারলে কর্ম সংস্থানও বাড়বে।”
জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে আগামীদিনে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিতে অভিভাকবদের যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি। রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির আধুনিকীকরণে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, “পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালে সরকারি স্কুলগুলিতে অডিও-ভিসুয়াল শিক্ষা। দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ৩ লক্ষ শিক্ষক দীক্ষা পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছেন ইতিমধ্যেই। ১ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি, ৮০০ স্কুলকে ‘পিএমশ্রী’-র আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলিতেও সোলার প্যানেল, ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, শৌচালয় নির্মাণ, পানীয় জল, সরকারি স্কুলে ফ্যান দেওয়ার কর্মসূচি গুলি সম্পন্ন করবে সরকার।”
