
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বীর সাভারকরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাহুলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র উত্তরপ্রদেশ সরকার আদালতে জমা দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে মামলাটির আইনগত ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি আর চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা নেই বলেই জানিয়ে তা খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বীর সাভারকরকে অপমান করার অভিযোগে মামলা করেছিলেন লখনউয়ের বাসিন্দা হিন্দুত্ববাদী নেতা নৃপেন্দ্র পাণ্ডে। ওই মামলায় বিরোধী দলনেতাকে সমন করেছিল লখনউয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত। রায়বরেলির সাংসদ হাজিরা না দিয়ে সোজা সুপ্রিম কোর্টে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। শুক্রবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানাল, “এই মামলার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র উত্তরপ্রদেশ সরকার দেয়নি। ফলে আইনানুগ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তাই এই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।”
রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২২ সালের ৫ মার্চ লন্ডন সফরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সাভারকরকে অপমান করেছিলেন কংগ্রেস নেতা। মামলাকারী নৃপেন্দ্র পাণ্ডের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার অপমানজনক মিথ্যা তথ্য দিয়ে গিয়েছেন রাহুল। সত্য জানা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি। এই ধরনের ঘটনা সাভারকরের মতো একজন ব্যক্তিত্বের সম্মানহানি করা। পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে আঘাত করা। কিন্তু শেষমেশ মামলা ধোপে টিকল না।
আসলে বিদেশের মাটিতে তো বটেই দেশের একাধিক জনসভায় রাহুলকে বার বার সাভারকর বিরোধী মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে। ২০২২ সালে সাভারকারের লেখা একটি চিঠি তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, বীর সাভারকার ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিলেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর জোর সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর মন্তব্যের জেরে ফুঁসে ওঠেন সাভারকর ভক্তরা। লন্ডনের মাটিতেও একই অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছিল রাহুলের মুখে। এই নিয়ে অবশ্য রাহুলের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে। যার মধ্যে একটি আবার সাভারকরের নাতি সাত্যকির করা।
