
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের দুই দেবতা রাম ও শিবকে নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভগবান রামকে তিনি ধনী শ্রেণির সঙ্গে এবং ভগবান শিবকে দরিদ্র মানুষের সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, কংগ্রেস শিবের ভক্ত, আর বিজেপি রামের ভক্ত। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির তরফে রেবন্ত রেড্ডির বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েই মূলত নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভগবান রাম ও শিবের মধ্যে তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আমরা হলাম দ্রাবিড় জাতি। আমাদের নিজস্ব সংস্কার রয়েছে। শিবজি হলেন গরিবের ভগবান এবং রামজি হলেন ধনীদের ভগবান। বিজেপি যেহেতু ধনীদের দল তাই তাঁরা শুধুমাত্র জয় শ্রীরাম স্লোগান দেয়, হর হর মহাদেব বলে না।” দ্রাবিড় ও আর্য সংস্কৃতির বিষয় তুলে ধরে রেবন্ত আরও বলেন, দক্ষিণে শিবের পুজো বেশি হয় এবং উত্তরে রামের। একইসঙ্গে রামকে নিয়ে রাজনীতির জন্য বিজেপিকে তোপ দেগে রেবন্ত বলেন, ওরা রামকে রাজনীতির প্রতীক বানিয়েছে।
রেবন্তের এহেন মন্তব্য সামনে আসার পর ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চরিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলেন, মুসলিমরাই কংগ্রেস ও কংগ্রেসই মুসলিম। এখন তিনি রাম ও শিবের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন। ভগবান শিব হলাহল বিষ পান করেছিলেন। তাই তাঁকে নীলকণ্ঠ বলা হত। আজ কংগ্রেস নিজস্ব হলাহল তৈরি করছে। যেখানে বর্ণ বনাম বর্ণ, উত্তর বনাম দক্ষিণ আর এখন শিব বনাম রাম। প্রধানমন্ত্রী মোদি বারাণসী অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন। যেখানে কাশী বিশ্বনাথ, ভগবান শিবের অবস্থান।”
