
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল উজ্জয়িনী। সেই ঘটনার তদন্তে এবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, মসজিদ ভাঙার ঘটনা নিয়ে একাধিক ভুয়ো ভিডিয়ো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই ভিডিয়োগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের অনুমান, এই ভুয়ো ভিডিয়ো ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়েই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত পাঁচজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে অশান্তি উসকে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
শাহি মসজিদের একাংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে উজ্জয়িনী। সোমবার মসজিদের কিছু অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু সেই কাজ শুরুর আগেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। মসজিদ চত্বরে এসে পৌঁছন মহিলারাও। শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে র্যাফ নামাতে হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘিরে ফেলা হয় অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতের নির্দেশ ছিল, মসজিদের কিছু অংশ ভাঙা যাবে। কিন্তু যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে দেখা যায় পুরো মসজিদই ভাঙা হচ্ছে। ওই ভুয়ো ভিডিও দেখেই বাড়তে থাকে জনরোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, ভুয়ো ভিডিও তৈরির ঘটনায় দায়ের হয়েছে আটটি এফআইআর। ২০ জনের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৫জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। কার মদতে এই ভুয়ো ভিডিও তৈরি হল এবং ছড়িয়ে দেওয়া হল, তদন্তে নেমেছে পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সীমস্থ মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে বড়সড় পরিকাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করছে উজ্জয়িনীর পুর নিগম। তার জন্য অন্তত ২৭২টি নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে শাহি মসজিদও। পুর নিগমের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হয় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে। কিন্তু মেলার কথা মাথায় রেখে উচ্চ আদালত ওই পিটিশন খারিজ করে। তারপর সোমবার শাহি মসজিদের প্রার্থনা কক্ষ, মিনার-সহ কয়েকটি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করতে যায় প্রশাসন। অভিযোগ, সেসময়ে পাথর ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পরে জানা গেল, তাঁদের অধিকাংশই জমা হয়েছিলেন ভুয়ো ভিডিও দেখে।
