
লখনউ, ২৮ সেপ্টেম্বর : দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-এর ব্যবহার বন্ধ করে ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়ার জোর দাবি জানালেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র সুপ্রিমো মায়াবতী। একই সঙ্গে জাতীয় রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার সকালে লখনউয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে মায়াবতী বলেন, "দিল্লি, প্রতিবেশী পঞ্জাব এবং দেশের অন্যান্য রাজ্যে প্রতিনিয়ত যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, তা দেশের জন্য অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের বিষয়। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির উচিত অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতির সংশোধন করা।"
নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে বিএসপি নেত্রী বলেন, নির্বাচন ও ভোট সংক্রান্ত যে সমস্ত সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা যথাসময়ে নিরসন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, "কমিশন সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ গোটা বিরোধী দল ক্ষুব্ধ। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়ানো যেত। আমি আশা করব, নির্বাচন কমিশন আমার উত্থাপিত বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।" গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদ দিয়ে মায়াবতী জোর দিয়ে বলেন, "নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ইভিএম বন্ধ করতে হবে। দেশে আবারও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চালু করা উচিত। ভোটারের মনে যদি সামান্যতম সন্দেহও থাকে যে তাঁর ভোট অন্য কোনও প্রার্থীর ঝুলিতে চলে গেছে, তবে তা কার্যত গণতন্ত্রের হত্যার শামিল এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে।"
ইভিএম ইস্যুতে বিজেপি ও কংগ্রেসের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে বিএসপি প্রধান মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর প্রায় পাঁচ দশক ধরে দেশে ব্যালট পেপারেই সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে। কেন্দ্রে যখন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তখন বিজেপিই প্রথম ইভিএমের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল যে মেশিনের অপব্যবহার করে কংগ্রেস নির্বাচনে জিতছে। মায়াবতীর কটাক্ষ, "আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সেই ইভিএম বাতিল তো করলই না, বরং সেই মেশিনের মাধ্যমেই ভোট ও গণনা চালু রাখল।"
