
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দল ভাঙার আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে আলাদা অবস্থান নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সেই মামলা খারিজ করে বিধায়কদের পদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি স্পিকারের উপরই ছেড়ে দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশ, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিধায়ক পদ সংক্রান্ত মামলাটির নিষ্পত্তি করতে হবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মাস খানেক পর উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকজন বিধায়ককে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন। পরে তাঁরা আরও বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক, তহবিলের দাবি জানান। সেসময় ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত-সহ ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে তাঁদের পদ খারিজের দাবিতে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানান দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত ৮ জুলাই এই আবেদন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও স্পিকার ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদও দেওয়া হয়েছে।
এরপর আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে সোজা শীর্ষ আদালতে যান শোভনদেব। এই মামলায় যাতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে, সেই আর্জিতে। কিন্তু সোমবার শোভনদেবের আর্জি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিধায়কদের পদ খারিজ নিয়ে ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্পিকারকেই। এনিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘আমরা নিজেরাই অনেক সময় ডেডলাইন মানতে পারি না, তাই নির্দেশ দেওয়ার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে। যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে রহবে স্পিকারকে।”
এদিন সুপ্রিম কোর্টে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মামলায় সওয়াল করেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলরা। এনিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মামলাটি সুুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে। স্পিকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনের তিন মাস পর্যন্ত সময় রয়েছে। অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিধায়কদের পদ খারিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিধানসভার স্পিকারকে।
