
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর প্যান্ডেলে এন্ট্রি পাস বিক্রির নামে বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। মঙ্গলবার সকালে কসবার বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। শুধু ইন্দ্রনীলের বাড়িতেই নয়, তাঁর কয়েকজন আত্মীয় এবং ম্যানেজারের বাড়িতেও একই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডি সূত্রে অভিযোগ, ‘পুজো পরিক্রমা’র নামে ইউনেস্কোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তছরূপ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বউবাজার থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডির এই তল্লাশি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার সকালে ইডি আধিকারিকরা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি ছাড়াও ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর পঞ্চসায়রের বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। এছাড়া হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও চলছে তল্লাশি। প্রতিটি বাড়ি ঘিরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও ইডি আধিকারিকরাও হানা দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক দুর্নীতির উৎসে পৌঁছনো।
তৃণমূল আমলে ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। দুর্গাপুজোর আগে পুজো পরিক্রমার জন্য ইউনেস্কোর নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রি করা হত। এর নেপথ্যে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থাকেই মূল দায়ী করছে ইডি, যার ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্ত। এই সংস্থা সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে চড়া দামে এন্ট্রি পাস বা টিকিট বিক্রি করা হত। তাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে ইডির অভিযোগ। এর সঙ্গে মধুছন্দারও যোগ রয়েছে বলে মত কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের।
২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। তারপরই ‘মাস আর্ট’ নামে সংগঠন তৈরি হয়। তারা নিজেদের ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ বলে দাবি করে দুর্গাপুজোর প্রচারে নামে। শুরু হয় পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি। কিন্তু চড়া দামে বিক্রি করা সেসব পাস আদতে ভুয়ো। প্রতারণার শিকার হয়ে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরূপের মামলা দায়ের করেন জুন মাসে। যদিও সেসময় ইন্দ্রনীল সেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এবার ইডি তদন্তে নামায় তিনি কি আদৌ এড়াতে পারবেন অভিযোগ? প্রশ্ন থাকছেই।
