
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর বা মাশুল বসানোর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে নতুন মাশুল ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। এই অর্থ থেকে কারা উপকৃত হবে এবং সংগৃহীত মাশুল কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও কাঠামো ব্যাখ্যা করে হলফনামা চাওয়া হয়েছে। তবে মামলাকারীর তরফে নতুন মাশুল কার্যকর করার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ। ফলে আপাতত নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর কার্যকর করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি হল না।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়াই মোদি সরকারের লক্ষ্য। আর সেই কারণেই ক্যাশলেস ইকোনমির দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। সেই প্রচেষ্টারই ফলপ্রসূ ইউপিআই লেনদেন। যত সময় গিয়েছে আমজনতার মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে ইউপিআই ব্যবহারের প্রবণতা। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে দিতে হবে অতিরিক্ত চার্জ। বসবে এমডিআর। এই পরিস্থিতিতে আদালত কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে ইউপিআইয়ের উপরে এমডিআর বসানোয় লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি শীর্ষ আদালত জানতে চেয়েছে, নয়া কাঠামোয় আরবিআই ও এনপিসিআইয়ের ভূমিকার বিষয়টিও।
এমডিআর বিষয়টি কী? সহজে বললে যখন কোনও ব্যবসায়ী অনলাইনে অর্থ গ্রহণ করেন, তার জন্য ব্যাঙ্ককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করেন। এই এমডিআর তথা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বিষয়টি ২০২০ সালের পর থেকে আর ভারতের বাজারে কার্যকর ছিল না। নয়া নিয়মে ২ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর কার্যকর বসবে। তবে ৭৫ হাজার টাকা বা তার চেয়েও বেশি অর্থের বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া কিছু বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতে ৫ টাকা নেওয়া হবে। যেমন পেট্রল পাম্প। এখানে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এই চার্জ দিতে হবে। একই ভাবে বিদ্যুৎ, পাইপে গ্যাসের মতো সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই একই হারে চার্জ নেওয়া হবে।
