
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফা দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেন খাড়গে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস সভাপতি। তবে নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি খাড়গের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাত ও ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক ইতিমধ্যে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গোটা দেশে আন্দোলন ছড়াচ্ছে কংগ্রেস। একই ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ঘরে-বাইরে তীব্র চাপের মধ্যে কমিশনের অন্দরে ফাটল ধরেনি বলে সাফাই দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সুর চড়ালেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। এদিন তিনি বলেন, “সঙ্গী দুই নির্বাচন কমিশনার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কর্মকাণ্ডকে স্বেচ্ছাচারী ও অনুচিত বলে অভিহিত করেছেন। এরপর পদে থাকার কোনও অধিকার নেই জ্ঞানেশ কুমারের।” কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “গোটা দেশ জেনে গিয়েছে যে জ্ঞানেশ কুমারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যই হল ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। এমতাবস্থায়, তাঁর পদে বহাল থাকার কোনও অধিকার নেই। তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত।” যোগ করেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোদি সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছেন। এমনকী তাঁর নিজের সহকর্মীরাও তাঁকে বিশ্বাস করেন না। এরপর তরুণরা প্রশ্ন তুলবেই এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।”
কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেন খাড়গে। যেমন, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আনতে হবে, যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের আপিল করার সুযোগ দিতে হবে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে যথাসময়ে সহজ বিন্যাসে ভোটার তালিকা দিতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে, সেখানে একটি নিরপেক্ষ ও সময়সীমা-নির্ধারিত তদন্ত করতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে হবে। যাতে কারও মনে এমন ধারণা না জন্মায় যে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে অবশ্যে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে যে, বহু-সদস্য বিশিষ্ট সংস্থায় মতপার্থক্য বা লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন একটি রুটিন প্রশাসনিক কাজ এবং এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলি।
