Festival and celebrations

57 minutes ago

Kharagpur Durga Puja: ৯৩ বছরে খড়গপুরের মিত্রবাড়ির দুর্গাপুজো, আজও নিমকাঠের কাঠামোতেই আরাধনা

Goddess Durga
Goddess Durga

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সময় বদলেছে, বদলেছে পুজোর আয়োজনের ধরনও। কিন্তু ঐতিহ্য আর পারিবারিক পরম্পরাকে আঁকড়ে ধরে আজও একই নিয়মে দুর্গাপুজো হয়ে চলেছে খড়গপুরের খড়িদা বাজার এলাকার মিত্র পরিবারে। এ বছর এই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো ৯৩ বছরে পা দিল। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও পুজোর মূল রীতি ও আচার-অনুষ্ঠানে আধুনিকতার বিশেষ ছাপ পড়েনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত জমিদার সন্তোষ মিত্রের উদ্যোগে ১৯৩৩ সালে বাড়ির উঠোনে তৈরি করা হয় মাতৃমণ্ডপ। তার পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৩৪ সালে শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই সময় থেকেই একচালার প্রতিমায় পুজোর প্রচলন। এখনও একই রীতিতে মায়ের আরাধনা হয়ে আসছে। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল প্রতিমার কাঠামো। পুজো শুরুর সময় নিমকাঠ দিয়ে যে কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, এত বছর পরেও সেই কাঠামোতেই প্রতিমা গড়ে পুজো করা হয়। পরিবারের সদস্য তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক স্বপন মিত্র জানিয়েছেন, পুরীর রথ তৈরির কাজে যুক্ত মিস্ত্রিরাই সেই সময় নিমকাঠের কাঠামোটি তৈরি করেছিলেন। সামান্য মেরামতি ছাড়া কাঠামোটিতে বড় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

শুধু প্রতিমা বা কাঠামো নয়, পুজোর অন্যান্য রীতিতেও রয়েছে পুরনো দিনের ছোঁয়া। ঢাকি থেকে পুরোহিত—প্রায় সমস্ত ব্যবস্থাপনাই চলে আসছে বংশ পরম্পরায়। পুজোর শুরু থেকেই খড়গপুর গ্রামীণ এলাকার খেমাশুলি থেকে কালন্দি পরিবারের ঢাকিরা মিত্রবাড়ির পুজোয় ঢাক বাজিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, মেদিনীপুর থেকে বংশ পরম্পরায় পুরোহিত এসে পুজোর দায়িত্ব সামলান। তবে মিত্রবাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণীয় রীতি রয়েছে দশমীর বিসর্জনে। দশমীর দিন খড়গপুর শহরের লালডেঙ্গা এলাকা থেকে একটি আদিবাসী দল পরিবার-সহ মিত্রবাড়িতে আসে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০-৬০ জন পুরুষ কাঁধে করে প্রতিমা ও কাঠামো নিয়ে শহরের একাংশ পরিক্রমা করেন। এরপর খড়িদা মন্দিরতলা পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এই রীতিও পুজোর শুরু থেকেই চলে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বপন মিত্র। বিসর্জনের পর কাঠামোটি সারা রাত পুকুরের জলে থাকে। পরদিন একাদশীর সকালে ওই আদিবাসী দলের সদস্যরাই কাঠামোটি জল থেকে তুলে মিত্রবাড়িতে পৌঁছে দেন।

এছাড়াও সন্ধিপুজোর ঠিক আগে ও পরে আতসবাজি ফাটানোর পুরনো রীতিও এখনও বজায় রয়েছে। পুজোর কয়েকটি দিন তাই শুধু দেবীর আরাধনা নয়, পরিবারের সদস্যদের মিলনেও পরিণত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশে থাকা আত্মীয়রাও এই সময় বাড়িতে ফিরে আসেন। একসঙ্গে বসে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়া ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন পরিবারের সকলে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলালেও খড়গপুরের মিত্র পরিবারের দুর্গাপুজোয় এখনও গুরুত্ব পায় সেই পুরনো রীতি, পারিবারিক বন্ধন আর কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা পরম্পরা। ৯৩ বছর পরেও তাই এই পুজোর মূল আকর্ষণ জাঁকজমক নয়, বরং ঐতিহ্যকে একইভাবে ধরে রাখার প্রয়াস। 

You might also like!