
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বারুইপুর আদালত চত্বরে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনায় হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেয়। মামলাটির শুনানিতে আদালতকে সহযোগিতা করার জন্য আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আদালত বান্ধব’ হিসেবে নিয়োগ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। বারুইপুর আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাই কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর বিষয়টি নতুন করে আইনি গুরুত্ব পেল।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “আজকে একজন আইনজীবীকে আক্রমণ করা হয়েছে। কালকে এ, বি, সি-কে আক্রমণ করা হবে। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনা বন্ধ হওয়া দরকার।” এই মামলায় সায়নের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হলফনামা চেয়েছে আদালত। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানি। গত ২২ সেপ্টেম্বর, পরিচালন সমিতির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড় কলেজ। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর পরিবর্তে স্থানীয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি করার দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান আইএসএফের ছাত্র সংগঠন। সোমবার ভাঙড় কলেজে সায়ন্তন যেতেই বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ এসএফআই-আইএসএফের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই অপেক্ষা করেন বিজেপি নেতা। পালটা স্লোগান দিতে শুরু করে এবিভিপিও। স্লোগান-পালটা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। দুই পক্ষের বচসা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাঙড় থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে তারা। এর পর পুলিশের ঘেরাটোপে কলেজে প্রবেশ করেন সায়ন্তন। তিনি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এই ঘটনায় ধৃত এসএফআই কর্মীদের জামিনের সওয়াল করতে বারুইপুর আদালতে যান আইনজীবী তথা বামনেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই ছাত্রের জামিনও মঞ্জুর করে আদালত। এরপরই সায়নকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। তাঁতে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। কীভাবে জেলা জজ এবং পুলিশের উপস্থিতিতে একজন আইনজীবী ডিম হামলার শিকার হলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই ঘটনাতেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
