
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজো আসতে আর বেশি দেরি নেই। নতুন পোশাক, সাজগোজ, প্যান্ডেল হপিং—সবকিছুর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার মাঝেই যদি পারিবারিক দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে, তার প্রভাব শুধু মনের উপরেই পড়ে না। ঘুমের সমস্যা থেকে চুল পড়া, এমনকি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যারও কারণ হতে পারে অতিরিক্ত স্ট্রেস। তাই পুজোর আগে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও নজর দেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক এবং ত্বকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে। এই সংযোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ব্রেন-স্কিন অ্যাক্সিস’ বলা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তার বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ত্বকের উপরেও দেখা দিতে পারে। বাইরে থেকে যতই সাজগোজ করা হোক না কেন, স্ট্রেসের প্রভাব ত্বকে ফুটে উঠলে তা সহজেই নজরে পড়ে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের অন্যতম প্রভাব হতে পারে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন। কারও ক্ষেত্রে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে উঠতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে শুষ্কতা। অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেসের সময় ব্রণ বা অন্যান্য প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
শুধু ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বক নয়, মানসিক চাপের সঙ্গে ত্বকের সংবেদনশীলতারও সম্পর্ক রয়েছে। স্ট্রেসের সময়ে ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে কিংবা আগে থেকে থাকা কিছু ত্বকের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। ঘুমের ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুলের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেসের সময় চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। ফলে পুজোর আগে ত্বক ও চুলের পরিচর্যার পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই উৎসবের আগে শুধু পার্লার বা স্কিন কেয়ার রুটিনের উপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, শরীরচর্চা এবং বিশ্রামের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত স্ট্রেস বা ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ পুজোর সাজকে সুন্দর রাখতে বাইরে থেকে যত্নের পাশাপাশি ভিতর থেকেও সুস্থ থাকা জরুরি।
