
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচিও হয়েছে। সেই আবহেই এ বার দুর্গাপুজোর থিমে শ্যামাপ্রসাদকে তুলে ধরছে নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ। ‘ভারত কেশরী’ নামে পরিচিত শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও সময়কে কেন্দ্র করে এবারের থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উৎস’।
দেশভাগের সময় বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক আলোচনা রয়েছে। সেই ইতিহাসেরই কয়েকটি অধ্যায়কে শিল্পের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছে সুরুচি সংঘ। সমকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্যামাপ্রসাদ ও ‘হিন্দু মহাসভা’ একটি আপসহীন গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনমতকে বাংলা ভাগের পক্ষে নিয়ে আসতে তৎপর হয়েছিলেন। ভাইসরয় ওয়াভেলকে লেখা ১৯ মার্চ, ১৯৪৭ সালের চিঠিতে গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, বাংলা ভাগের আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন মুখ্য প্রবর্তক। তিনি হিন্দু বাঙালিদের ভারতভুক্ত করার পক্ষে কেবল জোরালো মত রেখে থেমে যাননি, বাংলা ভাগ আটকাতে যে সব শক্তি পরস্পর হাত মিলিয়েছিল, তাদের মধ্যে লিগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশকে একই বন্ধনীতে রেখে সমালোচনাও করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি বাংলায় সংখ্যাগুরু মুসলিম লীগের আধিপত্য ও হিন্দুদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব মেনে নিতে পারেননি। জিন্নার উগ্রতার রাজনীতিকেও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অমলেশ ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন যে, একজন ‘উদারপন্থী’ হিন্দু রূপে শ্যামাপ্রসাদ হিন্দুদের ‘ভালো’র জন্য ফজলুল হকের সঙ্গে হাত মেলাতে বা কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকী বাংলা ভাগের প্রশ্নে বঙ্গীয় আইনসভার হিন্দু সদস্যদের তিনি যথেষ্ট প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এর আগে সুরুচি সংঘের পুজোয় শিল্পীর ভাবনায় স্বাধীনতা আন্দোলনের অনুশীলন সমিতি এবং দুর্গাপুজোর ইতিহাসও উঠে এসেছিল। এ বার সেই জায়গায় দেখা যাবে শ্যামাপ্রসাদকে ঘিরে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়। তবে থিমের বিষয়বস্তু বদলালেও পুজোর মূল আরাধনায় কোনও পরিবর্তন থাকছে না। মণ্ডপের শিল্পভাবনায় দেবী দুর্গা থাকছেন চিরপরিচিত মহিষাসুরমর্দিনী রূপেই। অর্থাৎ, এ বার সুরুচি সংঘের মণ্ডপে শুধুমাত্র শিল্পসজ্জা নয়, ইতিহাসের একটি বিশেষ সময়কে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে। ‘উৎস’ থিমের মাধ্যমে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও তাঁর সময়ের নানা ঘটনাকে কীভাবে শিল্পের ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়, সেটিই হতে চলেছে এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
