
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে কংগ্রেসের দায়ের করা মামলা খারিজ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। হলফনামায় তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। তবে আদালতের এই রায় নিয়ে মঙ্গলবার সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি হাসিরানি। বরং নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনের তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রামে প্রচারে আসেন, তা হলে তিনি আরও বেশি ভোটে জিতবেন। হাসিরানির এই মন্তব্যের পিছনে মমতার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের বিষয়টিই রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
হাসিরানি নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তা বিভ্রান্তিকর বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন এক কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি ছিল, হলফনামা অনুযায়ী বিজেপি প্রার্থীর জন্মসাল ১৯৬৬, আর তিনি মাধ্যমিক পাশ করেছেন ১৯৬৫ সালে। এটাকে তথ্যের গরমিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। এ দিন শুনানি শেষে কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে হাসিরানির আর কোনও বাধা রইল না। আদালতের রায়ের পরে নন্দীগ্রামের খোদামবাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমড়াতলা, পাথুরিয়া ও মনোহরপুর এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন হাসিরানি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস ভালো মনে করেছিল, তাই মামলা করেছিল। আদালত মনে করেছে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়, তাই খারিজ করে দিয়েছে। আমি এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ আইন আইনের পথে চলবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে অবশ্য সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন সঞ্চিতা। তার পরেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করেন মমতা। এ দিন তাঁকেও কটাক্ষ করেছেন হাসিরানি। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে আসেন, যত ভোটে জিততাম তার চেয়েও বেশি ভোটে জিতব।’ উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের উপনির্বাচন হবে। তবে সব নজরে রয়েছে নন্দীগ্রামেই। গত পাঁচ বছরে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত কেন্দ্র এটাই। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশে তিনি হারান তৃণমূল নেতা পবিত্র করকে। তবে শপথ নেন ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই। নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। তাই সেখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রায়ের মাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।
